দ. কোরিয়ায় ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে : ফের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু

পূর্ব এশিয়া

সিউল- দক্ষিণ কোরিয়ার করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা একেবারে কমে যাওয়ায় বুধবার কর্মজীবী মানুষের কাজে ফেরার মধ্যদিয়ে দেশটিতে ফের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হয়েছে।

দেশটিতে সামাজিক দূরত্ব আইন বজায় রেখে জাদুঘর ও গ্রন্থাগারগুলো ফের খুলে দেয়া হয়েছে। খবর এএফপি’র।

চীনের বাইরে প্রথম দিকে যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় কোভিড-১৯ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে সেসব দেশের অন্যতম দক্ষিণ কোরিয়া। তবে দেশটি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে বাধ্যতামূলক কোন লকডাউন আরোপ করেনি। বরং তারা মার্চ থেকে কড়াকড়িভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। দেশটিতে মার্চে স্কুলের নতুন বর্ষ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়।

কনসার্ট ও খেলাধূলার সব আয়োজন বাতিল করা হয় বা পিছিয়ে দেয়া হয়। গ্রন্থাগার ও জাদুঘরের মতো ভিড়ের স্থানগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

দেশটি ব্যাপক হারে পরীক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ‘ট্রেস, টেস্ট ও চিকিৎসা’ এমন কর্মসূচি হাতে নিয়ে কাজ করায় এখন ভাইরাস মোকাবেলায় সফল দক্ষিণ কোরিয়া। আর তাদের এই কর্মসূচি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

খবরে বলা হয়, ৫ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার এ দেশে করোনাভাইরাসে আড়াইশ’র কিছু বেশি মানুষ মারা গেছে। দেশটিতে নতুন সংক্রমের সংখ্যাও খুবই কম। গত তিন দিনে মাত্র ১৩ জন করোনায় আত্রান্ত হয়েছে। আবার এদের বেশির ভাগই বিদেশ থেকে এসেছে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানায়, আজ বুধবার দেশটিতে নতুন করে মাত্র দু’জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে মোট ১০ হাজার ৮০৬ জনে দাঁড়ালো।

খবরে বলা হয়, বুধবার কমপক্ষে ১শ’ দর্শনার্থী জাদুঘর পরিদর্শনে যান। এদিনের প্রথম দর্শনার্থী এক দম্পতি। জাদুঘরের স্টাফরা ফুলের তোড়া দিয়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *