লণ্ডভণ্ড পশ্চিমবঙ্গ

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে পশ্চিমবঙ্গে ৮৪ জনের মৃত্যু

ভারত লিড নিউজ

কলকাতা, ভারত- ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। দুমড়ে-মুচড়ে গেছে রাজধানী কলকাতা শহর। দুই ২৪ পরগনাসহ দক্ষিণের জেলাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

এনডিটিভি জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে নিহতদের পরিবার পিছু ২.৫ লাখ রূপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মমতা। জানিয়েছেন বিপর্যস্ত জেলা পুনর্গঠনে ১০০০ কোটি রূপির তহবিল গঠন করার কথা। দুর্যোগের এই সময়ে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সাহায্যও চেয়েছেন তিনি।

তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিজে এসে দেখে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, এত বছর কলকাতায় থেকেও এমন বিপর্যয় তিনি আগে কখনও দেখেননি।

আরও পড়তে পারেন:

আম্পানের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পশ্চিমবঙ্গ

মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা ঘূর্ণিঝড় আম্পান: মমতা

বুধবার সন্ধ্যায় মমতা বলেন, করোনাভাইরাসের চেয়েও আম্পান আরো বেশি খারাপ ফল বয়ে এনেছে। এই ঝড়ের তাণ্ডবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক লক্ষ কোটি রূপি হতে পারে। আম্পানের ঝাপটা মূলত পুরোটাই গেছে পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি সাগর থেকে স্থলে উঠে আসতে শুরু করে। সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন উপকূলে আছড়ে পড়ে আম্পান।

এ সময় বাতাসের একটানা বেগে ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার থাকলেও দমকা ও ঝড়ো হওয়া কখনো কখনো ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠে যায়। কলকাতার দমদম এলাকার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৩৩ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের উপমহাপরিচালক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, উপকূলীয় এলাকায় তাণ্ডবের পর কলকাতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার। রাত পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ২৪৪.২ মিলিমিটার। হাওয়া মে মাসে কলকাতায় এক দিনে এতো বৃষ্টিপাত আগে দেখা যায়নি।

উত্তর ২৪ পরগনায় সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে বসিরহাটে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানকার প্রায় ৮০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। জেলায় প্রায় ১০ হাজার বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। দমদম, বিরাটি, নিউ ব্যারাকপুর, মধ্যমগ্রাম, বারাসতের বহু এলাকায় খুঁটি উপড়ে বা ট্রান্সফর্মার ফেটে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে। হাওড়ার বহু জায়গায় বাড়ি ভেঙেছে, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে।

‘এলাকার পর এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে,’ বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। করোনাভাইরাসে অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্যে এমন দুর্যোগে অনেকটাই বিধ্বস্ত মমতা নিজেও। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের জন্য অর্থনীতির অবস্থা শেষ। তার ওপর এ দুর্যোগ। কোনও রোজগার নেই। পুনর্গঠন করতে অনেক টাকা লাগবে।’

বৃহস্পতিবার টাস্ক ফোর্সের বৈঠকে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শেষে ত্রাণের কাজে নামবে রাজ্য প্রশাসন। তাছাড়া, ঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গে যাবে কেন্দ্রীয় একটি প্রতিনিধি দলও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *