পাকিস্তানের যাত্রীবাহী বিমান

পাকিস্তানের যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ২৯ মৃত উদ্ধার

পূর্ব এশিয়া লিড নিউজ

ইসলামাবাদ, পাকিস্তান- পাকিস্তানের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার পিআইএর জেট বিমান এ-৩২০ লাহোর থেকে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ৯৯ জনকে নিয়ে করাচি যাচ্ছিল। করাচি বিমানবন্দরের অনতিদূরে জনাকীর্ণ একটি আবাসিক এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে। উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৯ জনকে মৃত ও দুজন জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু আরও অনেক হতাহত আশংকা করা হচ্ছে। খবর বিবিসির।

পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,পাকিস্তান ইন্টারন্যাশানাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) বিমানটিতে ৯১ জন যাত্রী এবং আটজন বিমান কর্মী ছিলেন। লাহোর থেকে বিমানটি যাত্রা শুরু করে পাকিস্তানের অন্যতম ব্যস্ত একটি বিমানবন্দর করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাচ্ছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানবন্দর থেকে বিমানটি মাত্র প্রায় এক মিনিটের দূরত্বে ছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে করাচির যে আবাসিক এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়েছে সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উঠছে। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এলাকার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

‘বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে করাচিতে, আমরা ঠিক কতজন যাত্রী বিমানে ছিল তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রাথমিকভাবে বিমানে ৯৯জন যাত্রী এবং আটজন ক্রু ছিলেন,’ জানান পাকিস্তান বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল সাত্তার খোখার।

বিমানটি করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাচ্ছিল। বিমানবন্দরের প্রায় দুই মাইল উত্তর পূর্বে করাচির মডেল কলোনি নামে একটি এলাকায় বিমানটি ভেঙে পড়ে। টিভি ফুটেজ থেকে দেখা গেছে এলাকার বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ উজায়ের জানিয়েছেন বিকট আওয়াজ শুনে তিনি বাইরে বেরিয়ে আসেন। ‌বলেন, ‘প্রায় চারটি বাড়ি পুরো বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। প্রচুর ধোঁয়া আর আগুন জ্বলছে। ওরা আমার প্রতিবেশি। ভয়ঙ্কর দৃশ্য।’আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী ড. কানওয়াল নাজিম বলেছেন তিনি মানুষের চিৎকার শুনতে পাচ্ছেন। এবং মসজিদ লাগোয়া তিনটি বাড়ি থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে।

আরও পড়তে পারেন:

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে পশ্চিমবঙ্গে ৮৪ জনের মৃত্যু

উন্মুক্ত আকাশ চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

সরু রাস্তার জন্য উদ্ধারকাজের জন্য যানবাহন এবং অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রচুর মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছে। পাকিস্তান সেনা বাহিনী বলেছে তাদের দ্রুত মোকাবেলা বাহিনীর সৈন্যরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য।

পাকিস্তানের দুনিয়া নিউজ সংবাদ সংস্থা ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ড হাতে পেয়েছে এবং liveatc.net নামেএকটি মনিটরিং ওয়েবসাইটে সেটা পোস্ট করেছেন।

এই কথোপকথনে পাইলটকে বলতে শোনা গেছে তারা ”দুটি ইঞ্জিন হারিয়েছে”। কয়েক সেকেন্ড পরে তাকে বলতে শোনা যায় “মে-ডে, মে-ডে, মে-ডে”। এরপর সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পাকিস্তানের বিমান নিরাপত্তা রেকর্ড

২০১০ সালে বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ারব্লু পরিচালিত একটি বিমান বিধ্বস্ত হয় ইসলামাবাদের কাছে। ওই দুর্ঘটনায় ১৫২জন যাত্রীর সবাই মারা যায়। সেটি ছিল পাকিস্তানের বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

২০১২ সালে পাকিস্তানের ভোজা এয়ার পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-২০০ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় রাওয়ালপিণ্ডিতে অবতরণ করার সময় বিধ্বস্ত হয়। ১২১জন যাত্রী এবং ছয়জন ক্রু-র সবাই প্রাণ হারান। আর ২০১৬ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশানাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল থেকে ইসলামাবাদ যাবার সময় আগুন ধরে যায় ও বিমানটি বিস্ফোরিত হয়ে ৪৭জন মারা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *