বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স

পাকিস্তানের বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার

পূর্ব এশিয়া লিড নিউজ

ইসলামাবাদ, পাকিস্তান- পাকিস্তানের বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার হয়েছে। করাচি বিমানবন্দরের কাছেই বিমানের ধ্বংসস্তুপ থেকে শনিবার বিমানের ডাটা রেকর্ডার যন্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পাকিস্তান বিমান কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আলজাজিরার।

করাচির একটি আবাসিক এলাকায় শুক্রবার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে যাত্রী ও ক্রু নিয়ে মোট ৯৭ জন নিহত হয়েছে। মাত্র দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পিকে-৮৩০৩ নামের পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের (পিআইএ) বিমানটি লাহোর থেকে করাচি যাচ্ছিল। করাচি বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে বিমানটি।  

সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এসময় শুধু দুইজন পুরুষ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে বলে জানান উদ্ধারকর্মীরা। শনিবার এর ব্ল্যাকবক্সটি পাওয়া যায়।

আরও পড়তে পারেন:

পাকিস্তানের যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, ২৯ মৃত উদ্ধার

এক সপ্তাহে দ্বিতীয় মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

শুক্রবার ৯৯ আরোহী নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর থেকে করাচির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে পিআইএ’র বিমানটি। অবতরণের কিছুক্ষণ আগে এটি জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে করাচি মডেল কলোনির ওপর বিধ্বস্ত হয়। সিন্ধু প্রদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই ঘটনায় ৯৭ জনের মৃত্যু ও দুই আরোহীর বেঁচে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে হতাহতদের মধ্যে আবাসিক এলাকাটির কেউ আছেন কিনা তা জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই তিনবার অবতরণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে প্রথমে একটি মোবাইল টাওয়ারে ধাক্কা দিয়ে পরে আবাসিক এলাকাটির ওপর আছড়ে পড়ে বিমানটি। তবে শনিবার পিআইএ’র প্রকৌশল ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ গত ২১ মার্চ এ৩২০ মডেলের বিমানটি পরীক্ষা করে দেখা হয়। আর বিধ্বস্ত হওয়ার আগের দিনই এটি ওমানের রাজধানী মাস্কট থেকে উড়াল দিয়ে নিরাপদে লাহোরে পৌঁছায়।

বিমানটির যান্ত্রিক ইতিহাস (টেকনিক্যাল হিস্টরি) প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ)। শনিবার সংস্থাটির প্রকৌশল ও রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিমানটির ইঞ্জিন কিংবা ল্যান্ডিং গিয়ারে কোনও সমস্যা ছিল না। বিধ্বস্ত হওয়ার একদিন আগেই বিমানটির মাধ্যমে নিরাপদ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

পিআইএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটিতে ইঞ্জিনসংশ্লিষ্ট সমস্যা, ল্যান্ডিং গিয়ার কিংবা অন্যকোনও বড় সমস্যা ছিল না। এর দুটি ইঞ্জিনই স্বাভাবিক ছিল জানিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রাবিরতির সময় এটি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত বিমানটিকে ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনার যোগ্য বলে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ)।

ডনের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর বিমানটিকে প্রথমবার এক বছর মেয়াদে উড্ডয়নের অনুমতি দেয় সিএএ। পরে প্রতি বছরই পরীক্ষার পর এক বছর করে অনুমতির মেয়াদ বাড়ানো হয়। এটি বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাকিস্তান সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *