হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিষিদ্ধ

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিষিদ্ধ করল ইউরোপের দেশগুলো

ইউরোপ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিষেধাজ্ঞার পর এবার করোনায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিষিদ্ধ করল ইউরোপের দেশগুলো। সোমবার ম্যালেরিয়ার ওষুধটির ব্যবহারে করোনা রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এর ব্যবহার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ডব্লিউএইচও। দুদিন পর বুধবার ওষুধটির ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত জানায় ফ্রান্স, ইতালি ও বেলজিয়াম।

রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রিটেনও এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। বিল গেটসের সংস্থা বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সপ্তাহ আগেই ওষুধটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছিল।

সোমবারই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ট্রায়াল আপাতত বন্ধ রাখছে। কিন্তু করোনা রোধে স্বাস্থ্যকর্মীদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবন বন্ধ করেনি ভারত। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের ডিরেক্টর জেনারেল চিকিৎসক বলরাম ভার্গব বলেন ‘আমরা মনে করি, করোনা আটকাতে এই ওষুধটির কার্যকারিতা রয়েছে। চালু নানা ধরনের পরীক্ষার ভিত্তিতেই আমাদের ধারণা চিকিৎসকের কড়া পর্যবেক্ষণে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবন একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।’

তিনি আরও বলেন, দিল্লির তিনটি সরকারি হাসপাতালে এই ওষুধটি প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে ‌, এই ওষুধটি কার্যকর হলেও হতে পারে। বমি ও মাথাঘোরার মতো কয়েকটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কয়েকজনের মধ্যে দেখা গেলেও তা বাহ্যিক। ফলে সংক্রমণ এড়াতে এই দাওয়াই ব্যবহারে সবুজ সংকেত দেওয়া রয়েছে এই ওষুধে।

করোনার রোগীর চিকিৎসায় কোনো ওষুধ না থাকায় বিদ্যমান নানা ওষুধ পরীক্ষা করছেন চিকিৎসকরা। ফলে বিভিন্ন দেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। তবে এই ওষুধ সেবনে অনেকের হৃদস্পন্দনে গুরুতর অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ সতর্ক করেছিল।

এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ক্লোরোকুইন ও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বিবৃতি দিয়েছিল। এরপরও করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে নিয়মিতই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবন করছেন বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ট্যাবলেটটি করোনা রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার না করার নির্দেশনা দিল। গেব্রিয়েসুস বলেন, কোভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের প্রয়োগ কতটা নিরাপদ, তার পর্যালোচনা চলছে। তার আগ পর্যন্ত বিশ্ব সংস্থার নির্বাহীরা এই ওষুধটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় বিশ্বে অনুমোদিত অন্য যেসব ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলছে, তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি কর্মসূচির প্রধান ডা. মাইক রায়ান বলেছেন, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার স্থগিত রাখার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এই ওষুধ এখন সারা বিশ্বে বিতর্কের কেন্দ্রে। ভারতে এ ওষুধ চিকিৎসার জন্য তো বটেই, এমনকি করোনা সংক্রমণ পরবর্তী প্রতিষেধক হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন-এর ব্যবহার নিয়ে গাইডলাইন তৈরি করেছে এবং বর্তমানে ৫৫টি দেশে এ ওষুধ রফতানিও করছে।

রিউম্যাটয়েড আর্থ্রারাইটিস এবং লুপাসের মত অটোইমিউন রোগের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক ও চিকিৎসার জন্যও এ ওষুধ ব্যবহার করা  হয়ে থাকে।

ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বলেছে, যেখানে ক্লোরোকুইন কার্যকরী, সেখানেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেয়া উচিত। পৃ্থিবীতে মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানের মত কিছু জায়গাতেই কেবলমাত্র হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন এখনও কার্যকর।

এ ওষুধ নিয়ে এত কথা কেন

কারণ হল হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইট। তাতে তিনি বলেন ‘হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন একসঙ্গে ব্যবহার করলে পৃথিবীর মেডিসিনের ইতিহাসে বৃহত্তম পরিবর্তন ঘটে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। ’এর কিছু পরেই ভারতের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রফতানি নীতি পরিবর্তন না করলে তার বদলা নেওয়ার হুমকি দেন। ভারত তারপরেই সে নীতির সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে।

আরও পড়ুন:

করোনার রোগীকে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ

করোনা ভয়ে ট্রাম্প হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন খাচ্ছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *