ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রে

চাপা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রে

আমেরিকা

শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্রমেই দানা বাধছে ক্ষোভ। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চলছে প্রতিবাদ। কোথাও কোথাও সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে। মিনেসোটার মিনেপোলিস, জর্জিয়ার আটলান্টা, নর্থ ক্যারোলিনার চার্লটসহ বহু শহরে রাস্তায় নেমে এসেছেন অধিবাসীরা। সামনে যা পাচ্ছেন তাতেই আগুন দিচ্ছেন তারা। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর হঠাৎ এত ক্ষোভ কেন- সে প্রশ্নের জবাবই উঠে আসছে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে। এখানে কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরা হল-

নিক ভ্যালেন্সিয়া, আটলান্টা, জর্জিয়া

‘পরিবর্তন অবশ্যই হওয়া দরকার। পুলিশ কর্মকর্তাদের আরও ভালো করে প্রশিক্ষণ দেয়া উচিত।’ কথাগুলো নিক ভ্যালেন্সিয়া নামে এক নারী বিক্ষোভকারীর। বিক্ষোভে অংশ নেয়ায় শুক্রবার তাকেও আটক করেছে পুলিশ। আটকের কিছুক্ষণ আগেই তিনি সিএনএনকে বলেন, মানুষ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। কারণ তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন নেই। পুলিশে সংস্কারের অভাব। তার কথায়, ‘এই প্রতিবাদ শুধু জর্জ ফ্লয়েডকে নিয়ে নয়। এটা আমাদের প্রকৃত সমস্যাগুলো নিয়ে। আমরা ময়লা পানি খাচ্ছি। আমরা ঠিকমতো শিক্ষা পাই না, স্বাস্থ্য সুবিধা নেই।’

লেসলি রেডমোন্ড, মানবাধিকারকর্মী, মিনেপোলিস

‘মিনেসোটায় যা ঘটছে, তা এক দিনের সমস্যা নয়। এটা বহু দিনের চাপা ক্ষোভ।আমি ঠিক বলতে পারব না, কতবার গভর্নর-মেয়রদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের বারবার সতর্ক করে বলেছি, আপনারা যদি কালোদের হত্যা করতেই থাকেন, শহর পুড়ে খাক হয়ে যাবে। আমরা অনেকবার শহরকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছি। এখন জ্বলতে শুরু করেছে, এর জন্য এখন আর আমরা দায়ী নই।’

কাস ওটলি, সমাজকর্মী, চার্লট, নর্থ ক্যারোলিনা

‘আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হলে অনেক কিছুই পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু তার আগে প্রকৃত সমস্যা খুঁজে বের করতে প্রত্যেককে সৎ ও একনিষ্ঠ হয়ে চেষ্টা করতে হবে।’

গোয়েন গার্নার, পুলিশের হাতে নিহত এরিক গার্নানের মা, নিউইয়র্ক

‘জর্জ ফ্লয়েড হত্যা কাটা ঘায়ে লবণ ছিটানোর মতো। সেদিনও পুলিশ কর্মকর্তারা বাড়িতে এসে আমাদের ভয়-ভীতি দেখিয়েছিল। তারপর আমার ছেলেকে হত্যা করল। কিন্তু আমরা তো কিছুই করিনি।’ এরিক গার্নারকে ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই গ্রেফতারের সময় ফ্লয়েডের মতোই গলা চেপে হত্যা করে পুলিশ।

র‌্যান্ডি ফিকি, বিক্ষোভকারী, কানসাস

‘তুমি যদি সরব না হও, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো কিছুই না বল, তাহলে তুমিও ওই ঘাতক পুলিশ কর্মকর্তার মতোই। আজ জর্জ ফ্লয়েডকে ঘাড়ে পা চেপে হত্যা করা হয়েছে। তুমিও তার থেকে ভিন্ন কেউ নও। আজ চুপ থাকলে কাল তোমার গলায়ও পা দিয়ে চেপে ধরবে।’

সোমবার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করে জর্জ ফ্লয়েডকে সিনেমাটিক কায়দায় হাঁটু চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। এ ঘটনায় আমেরিকাজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। জড়িত চার পুলিশ অফিসারকে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:

[কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা: বিচারের দাবিতে হোয়াইট হাউস ঘেরাও]

[কৃষ্ণাঙ্গ যুবক হত্যায় বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *