যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশে সংস্কার চাইলেন ওবামা

পুলিশে সংস্কার চাইলেন ওবামা

আমেরিকা লিড নিউজ

ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র- যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশে সংস্কার চাইলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। দেশটিতে পুলিশের পাশবিকতা ও বলপ্রয়োগের নীতি সংস্কারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড হত্যার জেরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনাভিযানের মধ্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ এ প্রেসিডেন্ট। বুধবার ওয়াশিংটন থেকে এক রাউন্ড টেবিল ভিডিও কনফারেন্সে ওবামা বলেন, অন্যদের মতো কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও জীবন। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ানের।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘চলমান বিক্ষোভে কয়েকজন হয়তো সহিংস আচরণ করছেন, কিন্তু বাকিরা সঠিক পথেই আছেন। আমেরিকার জন্ম হয়েছে প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে, যা আমেরিকান অভ্যুত্থান নামে পরিচিত।’

তিনি বলেন, ‘মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, চেজার চাভেজ এবং ম্যালকম দশমের মতো ব্যক্তিরা যুবক বয়সেই বিক্ষোভ করেছিলেন এবং সফল হয়েছিলেন। বর্তমান যুবকরাও বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন আনতে পারবেন। এর মাধ্যমেই দেশের উন্নতি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আদর্শ বজায় থাকবে।’

এছাড়া পুলিশে সংস্কারের ব্যাপারে ওবামা বলেন, ‘পুলিশের কিছু ইউনিয়ন ছাড়া সবাই সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক। পুলিশ বাহিনীতে সংস্কারের জন্য আটটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ওবামা বলেন, এর মাধ্যমে দেশে সহিংসতা কমবে।’

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিক্ষোভে সমর্থন জানান আরও ৩ প্রেসিডেন্ট। জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও জিমি কার্টার। সব সীমাবদ্ধতাকে মোকাবেলা করে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গত ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপোলিসতে শেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর থেকে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। চলে ভাঙচূর ও লুটপাটও। গ্রেপ্তার হয়েছে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী।

বারাক ওবামা বলেন, মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হতাশা ও ক্ষোভ এ বিক্ষোভকে আরও জোরদার করেছে। তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে মর্মান্তিক অবস্থা চলছে, যে জটিলতা, অস্থিরতা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, এ অবস্থা মানুষকে জেগে ওঠার একটি সুযোগ করে দিয়েছে।

অনলাইন ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক এইচ হোল্ডার জুনিয়র এবং ওবামার অর্থায়নের পরিচালিত অলাভজনক গোষ্ঠী মাই ব্রাদার্স কিপার অ্যালায়েন্সের মিনিয়াপোলিসের কয়েকজন কর্মী।

ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক মেয়রকে পুলিশের বলপ্রয়োগের নীতিমালা পর্যালোচনা করে আটটি বিষয়ে সংস্কারের আহ্বান জানান। এর মধ্যে অন্যতম হল বাধ্যতামূলক সংঘাত ঠেকানো (সংঘাতে জড়ানো নয়), চলন্ত যানবাহনে গুলি চালানো নিষেধ, যথাসময়ে ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করা। এর বাইরে পুলিশের কিছু কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দিতেও বলেছেন তিনি।

বিক্ষোভের বিষয়ে ওবামা বলেন, ‘দেশজুড়ে বিক্ষোভের যে ঢেউ বয়ে যাচ্ছে, তা পুলিশের কর্মকাণ্ড আর যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় সংস্কার আনার ক্ষেত্রে দশকের পর দশক ধরে ব্যর্থতার বিরুদ্ধে প্রকৃত ও বৈধ হতাশার প্রকাশ। বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ, সাহসী, দায়িত্বশীল আর উৎসাহব্যঞ্জক। তাদের প্রতি আমাদের সম্মান ও সমর্থন জানানো উচিত, নিন্দা নয়, যা ক্যামডেন, ফ্লিন্ট শহরের মতো কিছু শহরের পুলিশ প্রশংসনীয়ভাবে অনুধাবন করেছে।’

আমেরিকা বিপ্লবের কথা স্মরণ করিয়ে ওবামা বলেন, যারা বিক্ষোভ করছে তাদের মনে রাখা উচিত যে, আমেরিকাও বিক্ষোভ থেকেই জন্ম নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ দেশে অগ্রগতির প্রতিটি পদক্ষেপ, স্বাধীনতার প্রতিটি বিস্তৃতি, আমাদের গভীর আদর্শের প্রতিটি অভিব্যক্তিই এমন প্রচেষ্টায় অর্জিত যা সব সময় অস্বস্তিকর (বিক্ষোভ সহিংসতা) ছিল।’

সরকারে থাকতেও বারবার পুলিশে সংস্কার চেয়েছিলেন ওবামা। কিন্তু বিভাজনের রাজনীতির কারণেই তা সম্ভব হয়নি। তার সরকারের দ্বিতীয়ার্ধে ২০১৪ সালে সেন্ট লুইসের ফার্গুসনে এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এখনকার মতোই তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতেও পুলিশে সংস্কারের আহ্বান জানান তিনি।

সে সময় তিনি বলেন, শ্বেতাঙ্গ পুলিশের ওপর কৃষ্ণাঙ্গদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশে সংস্কার প্রয়োজন। এজন্য সদস্যদের আরও বেশি পরিধানযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহারের আহ্বানও জানান তিনি।

আরও পড়তে পারেন:

[বিক্ষোভকারীদের পুলিশি নির্যাতন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা]

[ফ্লয়েড হত্যার বিচার চায় স্ত্রী-পরিবার]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *