পিপিই সংকট ইউরোপ-আমেরিকায়

পিপিই সংকট ইউরোপ-আমেরিকায়, আমাদের নয়:তথ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ

ঢাকা, বাংলাদেশ: সরকারের তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পিপিই সংকট ইউরোপ-আমেরিকায়, আমাদের কোনো সংকট নেই। পিপিই-ভেন্টিলেটর সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের সামনে ও অন্যান্য রাজ্যে পিপিই’র জন্য বিক্ষোভ হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কানাডায় ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মাস্কের সংকট ছিল। আমাদের দেশে এ ধরনের সংকট হয়নি বরং দু’দিন আগে নাইজেরিয়া বিমান পাঠিয়ে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, পিপিই ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে গেছে। আমরা এসব সুরক্ষাসামগ্রী মালদ্বীপেও পাঠিয়েছি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতর থেকে ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রামের ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ১০০ শয্যার কোভিড ইউনিট উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় করোনা নিয়ে গুজব বা অপপ্রচার ছড়ানো শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘করোনাভাইরাসসহ যে কোনো বিষয়ে গুজব বা অপপ্রচার ছড়ানো শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ এবং জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।’  

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরুতে সারা পৃথিবীতে ভেন্টিলেশন ইউনিটের সংকট ছিল। একারণে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে ৬৫ বা তার চেয়ে বেশি বয়সের মানুষের চেয়ে অপেক্ষকৃত তরুণদের ভেন্টিলেশন ইউনিটের মাধ্যমে চিকিৎসার অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল। তবে আমাদের দেশে এ ধরনের সংকট হয়নি।’

এরপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে অনেক সময় নানা গুজব ও অপপ্রচার দেখা যায়, উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসসহ যেকোনো বিষয়ে গুজব, আতংক বা অপপ্রচার ছড়ানো ফৌজদারি অপরাধ, যা শাস্তিযোগ্য। ইতোমধ্যে এধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘটলেও সরকার ব্যবস্থা নেবে।’

মন্ত্রী এ সময় করোনা ইউনিট চালুর জন্য ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানান। তিনি ইউএসটিসি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলামকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সদ্যস্থাপিত ১০০ শয্যার কোভিড ইউনিটটি পুলিশ ও সাংবাদিকদের অগ্রাধিকারসহ সর্বসাধারণের চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী।

চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম ৭ আসনের সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০, জেনারেল হাসপাতালে ১০০, ইউএসটিসি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ১০০, মা ও শিশু হাসপাতালে ৫০ ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৫০টি বেড ইতোমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে।

চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ সংখ্যানুপতে বৈশ্বিক নিয়মানুসারে ১০% রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য যা পর্যাপ্ত। এর বাইরে ফিল্ড হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম সিটি কমিউিনিটি সেন্টারও প্রস্তুত হচ্ছে। একইসাথে আগাম সতর্কতা হিসেবে চট্টগ্রামের আরো কয়েকটি কমিউিনিটি সেন্টারকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তরের জন্য সিটি মেয়রকে অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এসময় চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য উপকরণ ও বাইরে ফার্মেসিগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের যোগান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রোধে সাংবাদিকদের সহায়তা চান।

পিপিই কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

যেখানে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেখানে পিপিই পরা জরুরি। কারণ এ ক্ষেত্রে শুধু তিনিই সংক্রমিত হবেন না, বরং তাঁর মাধ্যমে আরও অনেকেই সংক্রমিত হতে পারেন। যেমন হাসপাতালে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। এখানে লক্ষণ ছাড়া আক্রান্ত চিকিৎসকের কাছ থেকেও রোগীর মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে একজন রোগী চিকিৎসকদের মাধ্যমেই সংক্রমিত হয়। অন্যদিকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও রোগীদের মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারেন। ইতালিতেও এমনটি দেখা গেছে।

কী কী নিয়ে পিপিই

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পর্যাপ্ত সুরক্ষার জন্য পিপিইতে মোট পাঁচটি উপকরণ থাকতে হবে। এগুলো হলো মুখে পরার মাস্ক, চোখ ঢাকার জন্য মুখের সঙ্গে লেগে থাকে এমন চশমা, মুখের আবরণ (ফেস শিল্ড), গ্লাভস বা দস্তানা এবং গাউন।

পিপিই কেমন হওয়া দরকার?

পিপিই তৈরিতে এমন কাপড় ব্যবহার করা হয়, যেন তা কোনোভাবেই তরল শুষে নেবে না বা পিপিইকে সম্পূর্ণ শুষ্ক রাখবে। এটা এমন পদার্থে তৈরি হওয়া উচিত, যাতে তা কোনো ধরনের তরলকে ধারণ না করে এবং সেটা গড়িয়ে পড়ে যায়।

আরও পড়ুন:

[লাইফ সাপোর্টে মোহাম্মদ নাসিম]

[জাফরুল্লাহ চৌধুরী এখনও শঙ্কামুক্ত নন]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *