আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাষ্ট্র

আমেরিকা ইউরোপ

আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ মার্কিন মিত্রদের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের পদক্ষেপ নেয়ায় এমন ব্যবস্থা। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আফগানিস্তান, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং তাদের মিত্রদের চালানো যুদ্ধে নির্যাতন তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পদক্ষেপ, মার্কিন নাগরিকদের অধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ভ্রমণের পাশাপাশি আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে আইসিসি ব্যর্থ এবং অকার্যকর। এটি একটি ক্যাঙ্গারু কোর্ট। তাদের শাস্তি দেয়ায় আমাদের কোনো আনন্দ নেই। তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে শপিং করবে, ঘুরবে, এখানকার স্বাধীনতা ভোগ করবে; আর স্বাধীনতা রক্ষায় যারা ভূমিকা রাখছে, তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে বিচার সাজাবে- এটা হতে পারে না।

এসময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেন। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার বলেছেন, রাশিয়া হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালতকে তাদের উদ্দেশ্য সাধনে ব্যবহার করছে। মার্কিন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইল। তবে তীব্র সমালোচনা করেছে জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেন, ট্রাম্পের নির্দেশ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দৃঢ়ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পাশে আছে। সংস্থাটি ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আইসিসির প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আফগানিস্তানে নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণে স্থানীয়দের পাশাপাশি মার্কিন সেনাবাহিনী এবং তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জড়িত- এমন তথ্য রয়েছে দাবি করে আইসিসিকে তদন্তের আহ্বান জানান সংস্থার প্রধান প্রসিকিউটর ফাতৌ বেনসৌদা। প্রথম দফায় প্রত্যাখ্যাত হলেও, আপিলের পর গেলো মার্চে তদন্তের অনুমোদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আইসিসি। ওয়াশিংটনের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের ‘সর্বশেষ নজির’ বলেও অভিহিত করেছে তারা। পম্পেও নেটো সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পাশে চাইলেও নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্তেফ ব্লক ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে ‘চরম বিরক্তি’ প্রকাশ করেছেন।

আন্তর্জাতিক এ আদালতের কৌঁসুলি ফাতোও বেনসৌদা ২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান যুদ্ধে জড়িত মার্কিন সেনা, আফগান সরকারি বাহিনী এবং তালেবান জঙ্গিসহ সব পক্ষের নৃশংসতার অভিযোগ তদন্ত করে দেখার আবেদন জানিয়েছিলেন। গত বছর তার ওই আবেদন আইসিসি খারিজ করে দিলে বেনসৌদা আপিল করেছিলেন। মার্চে ওই আপিলের রায়ে তদন্ত চালানোর অনুমতি মেলে।

আরও পড়ুন:

[ফিলিস্তিনি কবরস্থান ধ্বংস করে শপিংমল ইসরাইলের]

[এক বাংলাদেশি বীরযোদ্ধার মৃত্যুতে ফিলিস্তিনে শোক]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *