ফিলিস্তিনি কবরস্থান ধ্বংস করে শপিংমল বানাচ্ছে ইসরাইল

ফিলিস্তিনি কবরস্থান ধ্বংস করে শপিংমল ইসরাইলের

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

ফিলিস্তিনি কবরস্থান ধ্বংস করে শপিংমল বানাচ্ছে দখলদার ইসরাইল। আঠার শতকের ঐতিহাসিক আল-ইসাফ মুসলিম কবরস্থান ধ্বংস করছে তেল আবিবের জাফা পৌরসভা। সেই স্থানে নির্মাণ করছে শপিংমল ও আশ্রয়কেন্দ্র। অবৈধ ও জবরদস্তি এই নির্মানের প্রতিবাদে বন্দর নগরী জাফায় টানা ছয় দিন ধরে প্রতিবাদ করছে ফিলিস্তিনিরা। এদিকে সিরিয়ার গোলান মালভূমিতেও ইসরাইলের ইহুদি বসতি নির্মাণ শুরু হয়েছে। খবর আলজাজিরা ও এএফপির।

নতুন ভবন নির্মানের সূচনা হিসেবে সোমবার থেকে ইসরাইলি বুলডোজার ফিলিস্তিনি কবরস্থান ধ্বংস করা শুরু করেছে। ১৯৪৮ সালের আগে ইসরাইল কর্তৃক জাফা শহর দখলের পূর্বে শতশত ফিলিস্তিনি মুসলিমকে সেখানে কবরস্থ করা হয়। এর প্রতিবাদে তেল আবিবের পৌরসভা জোট থেকে জাফা বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে।

ইয়াফা শহরের উত্তরে অবস্থিত এই মুসলিম কবরস্থান ধ্বংসের প্রতিবাদে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর বিপুল মুসলিম পদযাত্রা শুরু করে। আল-আকসা মসজিদের ইমাম শায়েখ ইকরামা সাবরি ওই কবরস্থানে মুসল্লিদের নিয়ে জুম্মা আদায় করেন। জুম্মার খুতবায় তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামের ঐতিহাসিক এই কবরস্থানসহ মুসলমানদের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করছে ইসরাইল। মৃতদের জন্য কবরস্থানের জমি রক্ষা করা আমাদের নৈতিক অধিকার।

এর আগে সাবরিকে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরসাইল। নেসেট সদস্য সামি আবু শেহাদেহ জেফার আন্দোলনরত জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তেল আবিব/ জাফা পৌরসভার জোট থেকে সরে আসার সাহসী পদক্ষেপের জন্য জাফাকে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টও দিয়েছেন তিনি।

আবু শেহাদেহ বলেন, ‘জাফায় আমাদের পবিত্র স্থান রক্ষা করা কেবল একটি অধিকারই নয় বরং একটি দায়িত্বও। কবরস্থান ধ্বংস করার মাধ্যমে ইসরাইল জোট চুক্তির সেই ধারাটিকে লঙ্ঘন করেছে।

গোলান মালভূমিতে ইসরাইলের ইহুদি বসতি নির্মাণ শুরু

ইসরাইলের বসতি বিষয়ক মন্ত্রী জিপি হোটোভ্যালি রোববার বলেছেন, ইসরাইল অধিকৃত গোলান মালভূমিতে নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের পরিকল্পনায় সরকার অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পটিকে হিব্রু ভাষায় ‘রামাত ট্রাম্প’ অর্থাৎ ‘ট্রাম্প মালভূমি’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

জিপি হোটোভ্যালি ফেসবুকে লিখেছেন, তার মন্ত্রণালয় রামাত ট্রাম্পের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিতে যাচ্ছে। অবৈধ এ আবাসন প্রকল্পে ৩০০ পরিবারের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ইহুদি জনবসতিটি বর্তমানে ব্রুচিম নামে পরিচিত এবং এটি ৩০ বছরেরও বেশি পুরনো। এর জনসংখ্যা মাত্র ১০ জন।

১৯৬৭ সালের জুনে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরীয় ভূখণ্ড গোলান মালভূমি দখল করে নেয় ইসরাইল। সেখান থেকে সিরিয়ান আরব বাসিন্দাদের বেশির ভাগই পালিয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে এটি পুনর্দখলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সিরিয়া। ১৯৮১ সালের ৪ ডিসেম্বর একতরফাভাবে ওই এলাকাকে নিজেদের অংশ ঘোষণা করে ইসরাইল।

তবে এই দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেয়নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের গ্রহণ করা এক প্রস্তাবে ইসরাইলকে পূর্ব জেরুসালেম ও গোলান মালভূমিসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণ বন্ধ করতে বলা হয়।

তবে গত বছরের মার্চে জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অধিকৃত গোলান উপত্যকায় ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ইহুদিবাদী দেশটির সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন সফররত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে পাশে রেখেই ওই স্বীকৃতিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই স্বীকৃতির পরপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় সিরিয়া। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ বলে উল্লেখ করে দামেস্ক। সিরিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতির প্রতিবাদ করেছে অনেক দেশ। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের মতে, এই বসতি উন্নয়নের জন্য ৮০ লাখ শেকেল (২৩ লাখ মার্কিন ডলার) ব্যয় করা হবে।

রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল গোলান মালভূমির ‘রামাত ট্রাম্প’ প্রকল্পের বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া শুরু করবে। এটি ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব, যার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন:

[এক বাংলাদেশি বীরযোদ্ধার মৃত্যুতে ফিলিস্তিনে শোক]

[আল-আকসা মসজিদের খতিবকে আটক করেছে ইসরাইল]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *