চীনের প্রেসিডেন্ট ভেবে কিমের কুশপুত্তলিকা দাহ

ভারত লিড নিউজ

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত- চীনের প্রেসিডেন্ট ভেবে উত্তর কোরিয়ার নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে। লাদাখে চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবাদ মিছিল বের করে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতাকর্মীরা। ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পোড়ানো হয় কুশপুত্তলিকা। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পরিবর্তে কিম জং উনের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে। তাতেই উঠেছে হাসির রোল।

লাদাখ সীমান্তে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সংঘর্ষে ভারতজুড়ে প্রতিবাদ হয়েছে। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনাসদস্য নিহত হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ইতোমধ্যে ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে ভারতীয়রা। চীন বিরোধী বিক্ষোভ চলছে চারপাশে।

এরই ধারাবাহিকতায় রাস্তায় নেমে এসেছিল পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের বিজেপি কর্মীরা। কিন্তু সেখানেই বড় ভুল করে ফেলেন তারা। আসল শত্রু কে তাকে চেনেই না অনেকে। তাই চীনা চীনের প্রেসিডেন্ট ভেবে পোড়ানো হয় উত্তর কোরিয়ার নেতার কুশপুত্তলিকা।

আরও পড়ুন

[আটক ১০ ভারতীয় সেনাকে মুক্তি দিয়েছে চীন]

[ভারতের হামলায় ৪ পাকিস্তানি নিহত]

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি কর্মীদের এই কাণ্ড ভাইরাল হয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, আগে দেশের শত্রু কে তা ঠিক করুক বিজেপি! তারা এখনও শত্রুকেই ভালো করে চিনে উঠতে পারেনি। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এই মুহূর্তে ভারতের কোনও বিবাদ নেই। সমস্যা রয়েছে চীনের সঙ্গে। তবে এমন একটা ভয়ংকর ভুলের পর একে অপরকে দোষারোপ করছে বিজেপি কর্মীরা।

১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে সোমবার রাতে ঘটে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, প্রাণহানি ঘটেছে চীনাদেরও। এনডিটিভির খবরে বলা হচ্ছে, ৪৩ জনেরও বেশি চীনা সেনাসদস্য গুরুতর আহত হয়েছে বা মারা গেছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে নিজেদের হতাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি।

ভারত ও চীনের সীমান্তবিরোধ সময়ে সময়ে তীব্র হলেও দীর্ঘ সাড়ে চার দশকে কোনো পক্ষে প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। শেষবার মৃত্যু হয়েছিল চার ভারতীয় টহলদারি সেনার। ১৯৭৫ সালে। অরুণাচল প্রদেশের টুলুং লায়। তারপর এবার লাদাখে। সোমবারের এই ঘটনা সামরিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক।

সংঘর্ষে প্রাণহানি হলেও কোনো পক্ষ থেকে গুলি চালানো হয়নি। সেনাদের মৃত্যু হয়েছে হাতাহাতি, রডের ব্যবহার ও পাথর ছোড়াছুড়িতে। কীভাবে ও কেন এই সংঘর্ষ, তার বিস্তারিত বিবরণ কোনো পক্ষেই নেই। ভারতীয় সেনাবাহিনী গতকাল মঙ্গলবার যে বিবৃতি দেয়, তাতে বলা হয়েছে, গলওয়ান উপত্যকায় উত্তেজনা কমানোর চেষ্টার মধ্যে সোমবার রাতে হঠাৎ সংঘর্ষ বাধে। তাতেই সেনাসদস্যদের মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *