লাদাখে চীনকে চরম শিক্ষা দেয়া হয়েছে, বললেন মোদি

চীনকে চরম শিক্ষা দেয়া হয়েছে লাদাখে: মোদি

চীন ভারত লিড নিউজ

লাদাখে ২০ জন সেনা নিহত হলেও চীনকে চরম শিক্ষা দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনায় সীমান্ত পরিস্থিতি আলোচনার জন্য আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। ভার্চুয়াল এই বৈঠকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

লাদাখ সংঘর্ষের চারদিন পর অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মোদি বলেন, ‘লাদাখে আমাদের ২০ জন বীর জওয়ান শহীদ হয়েছেন। কিন্তু চীনকে চরম শিক্ষা দেয়া হয়েছে। মৃত্যুর আগে তারা ভারতমাতার দিকে যারা চোখ তুলে তাকিয়ে ছিল তাদের চরম শিক্ষাও দিয়েছে।’ ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনা ঢুকতেই পারেনি উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘আমাদের কোনো পোস্ট দখল হয়নি। কিংবা কেউ আমাদের সীমান্ত টপকে দেশের মধ্যে ঢুকেও পড়েনি।’

ভারতকে রক্ষা করার জন্য যা যা করার দরকার, তা ভারতীয় সেনাবাহিনী করেছে বলেও বৈঠকে মন্তব্য করেন মোদি। তিনি বলেন, জওয়ানদের ওপর পুরো ভরসা রয়েছে দেশের। আমি ওই বীর জওয়ানদের একথা বলতে চাই, পুরো দেশ আপনাদের সঙ্গে রয়েছে।

সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমার, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী ও এনপিপি প্রধান কনরাড সাংমা, ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন, বিজেডি নেতা পিনাকি মিশ্র। এছাড়া  বিজেপি, এআইডিএমকে, টিআরএস, এলজেপি, বসপা, সপা, শিবসেনাসহ বিরোধী দলগুলোর নেতারা অংশ নেন। তবে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি আম আদমি পার্টি ও আরজেডিকে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে উত্তেজনার পর গত ১৫ জুন (সোমবার) উভয় পক্ষ সংঘাতে জড়ায়। ওই সংঘাতে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার কথা জানায় দিল্লি। আহত সেনার সংখ্যা অন্তত ৭৬।

শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে, চীন কর্তৃক আটক ১০ ভারতীয় সেনা সদস্যকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে হতাহতের কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এবং আটকের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলেছে।

চীন সঙ্গে সঙ্গে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো ভারতকে দোষ দিয়েছে। ভারতীয় সেনারাই নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে উস্কানি দিয়েছে এবং আগে চীনা সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ চীনের।

যদিও পূর্ব-লাদাখের নিয়ন্ত্রণরেখা এলএসি সীমানা ভালভাবে নির্দেশ করা নেই। উপরন্তু সেখানে নদী, হ্রদ এবং বরফে ঢাকা পর্বতের কারণে এর হেরফেরও ঘটে। ফলে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চীনের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে।

আরও পড়ুন:

আটক ১০ ভারতীয় সেনাকে মুক্তি দিয়েছে চীন

চীনের প্রেসিডেন্ট ভেবে কিমের কুশপুত্তলিকা দাহ ভারতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *