সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে ইরান

সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে ইরান

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

এবার সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে ইরান। শিগগিরই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর নৌ বিভাগের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খানযাদি। বলেছেন, আমরা খুব শিগগিরই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করব। এরই মধ্যে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে টার্বোফ্যান ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। বৃহস্পতিবার সাগরে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্প ও দীর্ঘ পাল্লার কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর খানযাদি এক টিভি সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান।

খানযাদি বলেন, আমরা বর্তমানে সাগরে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়িয়েছি এবং খুব শিগগিরই এর পাল্লা আরও অনেক বাড়ানো হবে। আমরা আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখব। আমাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা এ জন্য দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ইরান যেসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে তা শব্দের গতির কাছাকাছি পর্যায়ের।কিন্তু শব্দের গতির চেয়ে কয়েকগুন বেশি গতিতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তার দেশ। অদূর ভবিষ্যতে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হবে।

ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে ধরা হয় দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে। এবার পরাক্রমশালী যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে নিজেদের সেই শক্তির জানান দেয় তেহরান। রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার কাসেম সোলেমানি হত্যার পর গত ৮ জানুয়ারি ভোরে ইরাকে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ডের বিবৃতির বরাতে জানায়, ইরানের ভূমি থেকে ১২টিরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনও এক বিবৃতিতে হামলার কথা জানায়। ইরানের সমৃদ্ধ ভাণ্ডারের কোন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে তা অবশ্য জানা যায়না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড়; বিশেষ করে স্বল্প পাল্লা আর মাঝারি পাল্লার। এসব ক্ষেপণাস্ত্র অনেক ক্ষেত্রেই সৌদি আরব ও উপসাগরীয় এলাকার অনেক ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে সক্ষম। পেন্টাগনের দাবি, গেল কয়েক বছর ধরেই আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে ইরান।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভার:

সাহাব-১: ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম।

সাহাব-২: ৫০০ মাইল দূরের লক্ষ্যে হামলা চালাতে সক্ষম।

কিয়াম-১: ৭৫০ মাইল পর্যন্ত যাওয়ার ক্ষমতা। হামলা চালাতে পারে তুরস্কের লক্ষ্যবস্তুতে।

ফাতেহ-১১০: অতিক্রম করতে পারে ৩শ’ থেকে ৫শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব।

জোলফাগার: ইরানের অস্ত্রসম্ভারে থাকা এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অতিক্রম করতে পারে ৭শ’ কিলোমিটার দূরত্ব।

সাহাব-৩: পাড়ি দিতে পারে ২ হাজার কিলোমিটার। এই দূরত্বে রয়েছে রাশিয়া, চীন, মিশর ও ভারতের মতো দেশ।

আরও পড়ুন:

[ফিলিস্তিনি কবরস্থান ধ্বংস করে শপিংমল ইসরাইলের]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *