বাগদাদ বিমানবন্দরে সোলেমানির স্মরণিকা উদ্বোধন

বাগদাদ বিমানবন্দরে সোলেমানির স্মরণিকা

মধ্যপ্রাচ্য

বাগদাদ, ইরাক- ইরাকের রাজধানী বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় শহীদ ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলেমানি ও আবু মাহদী আল মুহান্দিসের স্মরণিকা উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এই স্মৃতিচিহ্ন উদ্বোধন করা হয়।

পার্সটুড জানায়, এখন থেকে বাগদাদ বিমানবন্দরে ঢুকতে গেলেই চোখে পড়বে বিশাল এক দেয়াল যেখানে দক্ষ শিল্পীর হাতে অঙ্কিত হয়েছে ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান শহীদ জেনারেল কাসেম সুলাইমানি ও ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের উপ-প্রধান শহীদ আবু মাহদি আল মুহান্দেসের ছবি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। তাদেরকে যেখানে হত্যা করা হয়েছে সেখানেও ফুল দিয়েছেন ইরাকিরা। স্মৃতিচিহ্নটির নাম দেয়া হয়েছে ‘জামালুন নাসর’ বা বিজয়ের সৌন্দর্য।

ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের বাইরে এ বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় প্রাণ হারান ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেমানি ও ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের উপ-প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ ১০ সামরিক কর্মকর্তা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরাকে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।

সোলেমানিকে হত্যার পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও দুই দেশ যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম হয়। গত সপ্তাহেই সোলেমানি হত্যায় সহযোগিতাকারী এক মার্কিন গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ইরান। গুপ্তচর ইরানেরই নাগরিক। সোলেমানির গোপন তথ্য আমেরিকার হতে তুলে দেয়ার মামলায় সাইয়েদ মাহমুদ মৌসাভি মজিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় বিচার বিভাগ।

বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলাম হোসেইন ইসমাইলি জানান, মাজিদ সোলাইমানি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হাতে নগদ টাকার বিনিময়ে তথ্য তুলে দেয় মাজিদ। কিন্তু বিচার বিভাগের মিডিয়া অফিস জানায়, সোলাইমানি হত্যার সময় মাজিদ জেলে ছিল।

ইসমাইলি বলেন, রেভ্যুলেশনারি আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ও পৃথক আদালতের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত নিশ্চিত হওয়ার পরে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে। ইসমাইলি আরও জানান, সিআইএ এবং মোসাদের অন্যতম গুপ্তচর মাহমুদ মুসভী মাজিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

`তিনি আমাদের শত্রুর হাতে কাসেম সোলেমানির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিলেন। মাজিদ ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও বিশেষত রেভ্যুলেশনারি গার্ড সম্পর্কে ইসরাইল এবং আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য পাচার করেছেন।’

আরও পড়ুন:

সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে ইরান

ফিলিস্তিনি কবরস্থান ধ্বংস করে শপিংমল ইসরাইলের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *