হামলার আশঙ্কায় দিল্লিতে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি

ভারত লিড নিউজ

দিল্লি, ভারত- সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। লাদাখে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জঙ্গি হামলা হতে পারে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর থেকে সড়কপথে দিল্লিতে জঙ্গিরা প্রবেশ করেছে। আরও কয়েকজন ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাস, ট্যাক্সি বা ট্রাকে করে এসব জঙ্গি দিল্লিতে এসেছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে দিল্লিতে বড়সড় নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। এমন তথ্য পাওয়ার পরই দিল্লিতে কড়া সতর্কতা জারি হয়েছে।

আরও পড়ুন

[লাদাখ সীমান্তে সেনা পাঠাচ্ছে চীন, দুর্গ গড়ছে ভারত]

[চীনকে চরম শিক্ষা দেয়া হয়েছে লাদাখে: মোদি]

দিল্লি পুলিশ জানায়, ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও স্পেশাল সেলকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। রাজ্যের ১৫ জেলাতেই পাঠানো হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। হামলার আশঙ্কায় দিল্লি শহরের সব বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও বাজার এলাকায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে। শহরের সব হোটেল, মোটেল ও বাসস্ট্যান্ডে তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

দিল্লিতে প্রবেশের পথের সব পয়েন্টে চেক পোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের নম্বরপ্লেটের গাড়িগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গত ১৫ জুন রাতের সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহতসহ চীনের বহু সেনা হতাহত হয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

এর মধ্যে গালওয়ান উপত্যকায় গত ১৫ জুন রাতে ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) কম্যান্ডিং অফিসারের মৃত্যুর ঘটনা মেনে নিয়েছে চীন।

সেনা সূত্রের খবর, সোমবার পূর্ব লাদাখের চুশুলের অদূরে চীন নিয়ন্ত্রিত মলডো এলাকায় দ্বিপাক্ষিক কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠকে চীন সেনার পক্ষ থেকে কম্যান্ডিং অফিসারসহ কয়েকজন সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করা হয়েছে। গালওয়ানের ঘটনার পরে এই প্রথম চীনের পক্ষ থেকে তাদের সেনার মৃত্যুর খবর মেনে নেয়া হলো।

পূর্ব লাদাখের বিভিন্ন এলাকায় এলএসি পেরিয়ে মে মাসে চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশের পরে গত ৬ জুন দু’পক্ষের লেফটেন্যান্ট জেনারেল স্তরের বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে স্থির হয়েছিল, উত্তেজনা কমাতে দু’পক্ষই মুখোমুখি অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসবে।

গালওয়ানের পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪-তে চীনা সেন্যরা সেই প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। ১৫ জুন রাতে এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে চীনা বাহিনীর হামলায় নিহত হন কর্নেল বি সন্তোষ বাবুসহ ২০ জন ভারতীয় সেনাবাহিনী। আহত হন অন্তত ৭৬ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *