মিশরের হুমকি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল

মিশরের সামরিক হুমকি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

ত্রিপোলি, লিবিয়া- মিশরের সামরিক হুমকি ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ বলে অভিহিত করেছে লিবিয়ার জাতিসংঘ স্বীকৃত জাতীয় ঐক্যমতের সরকার (জিএনএ)। সেই সঙ্গে আরব লিগের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় আলোচনা বয়কট করেছে। আগামী সপ্তাহে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি শনিবার এক সতর্ক বার্তায় বলেন, জিএনএপন্থী বাহিনী যদি রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৌশলগত শহর সির্তের দিকে অগ্রসর হয়, সেটা কায়রোকে সরাসরি হস্তক্ষেপে উস্কানি দেয়া হবে।

এছাড়া লিবিয়ায় তুরস্কের হস্তক্ষেপ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে মিশর সেনাবাহিনীকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে মিশন চালানোর জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মিশরের প্রেসিডেন্টের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রোববার গর্ভমেন্ট অব ন্যাশনাল অ্যাকর্ড (জিএনএ) এক বিবৃতিতে জানায়, এটি একটি শত্রুতামূলক পদক্ষেপ। এছাড়া এটি সরাসরি হস্তক্ষেপ যা যুদ্ধ ঘোষণার সমান।

লিবিয়া বিষয়ে আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ভার্চুয়াল বৈঠকের প্রাক্কালে মিশর এই সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়। এই বৈঠকে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জিএনএ। সোমবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে মঙ্গলবার করা হয়েছে।

জিএনএ’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামেদ তাহের সিয়ালা বলেন, আগামী সপ্তাহে তাদের আরব লিগের সঙ্গে একটি আলোচনা করার কথা। কিন্তু এই আলোচনায় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে জিএনএ’র সম্পর্কের চিড় আরো গভীর হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই এই কার্যক্রম আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম।

মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, কিছু দিন আগে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জিএনএ সরকারকে ভিডিও কনফারেন্সে আরব লীগের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল মিশর।

লিবিয়ায় ক্ষমতা দখল নিয়ে দীর্ঘ সহিংসতায় মিশর খলিফা হাফতারকে সব সময় সমর্থন দিয়েছে। এর কারণে সিয়ালা দাবি করেন, আরব লিগের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা ফলশ্রুতি হবে না। লিবিয়ায় চলমান সংকটের কথা সেখানে বুঝিয়েও বলা সম্ভব হবে না। সমস্যা সমাধানে এটি কোনো উপায় হতে পারে না।

এর আগে মিশরের একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেয় জিএনএ। সে সময় তারা বলে, এটি হাফতারের এজেন্ডা ছাড়া আর কিছুই না। লিবিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জিএনএ ও জেনারেল খলিফা হাফতারের বিরোধিতা চলে আসছে। জিএনএ-কে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক আর হাফতারকে সমর্থন দিচ্ছে আরব আমিরাত, মিশর ও ইউরোপের কিছু রাষ্ট্র। দুই পক্ষই তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ায় সরকার গঠন করতে মরিয়া।

আরও পড়ুন

সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে ইরান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *