আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপন

বাংলাদেশ

ঢাকা- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বৃক্ষরোপন করা হল। দলটির ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জনাব দেলোয়ার হোসেনের নির্দেশনায় শত রকমের বনজ, ফলজ ও ভেজষ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৩ জুন)  দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনা কালি মন্দিরের আসে পাশে বৃক্ষরোপন করা হয়। বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটি  সদস্য উৎপল সাহা, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রিমন সিকদার, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহবুব হোসাইন।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রিমন সিকদার জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ কে সবুজ শ্যামল ভাবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আ্ওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জনাব দেলোয়ার হোসেনের পরিকল্পনায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহন করেছি।

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (২৩ জুন)। ১৯৪৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার রোজ গার্ডেনে (হুমায়ুন সাহেবের বাড়ি) এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে জন্ম হয় ক্ষমতাসীন দলটির। এরপর জাতি গঠনের প্রতিটি সোপানে-স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে আওয়ামী লীগ।

প্রতিষ্ঠার সময়ে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নাম ধারণ করলেও ১৯৫৫ সালে এই দল ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। দলের নামকরণ করা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৬৬-এর ৬ দফা, ৬৯-এর গণআন্দোলনসহ দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাঙালি জাতি।

পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭১ বছর পূর্তিতে সীমিত আয়োজনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসমাগমের কর্মসূচি এড়িয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে কিছু অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হতে যাচ্ছে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

১৯৪৭ সালে সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ভূখণ্ড, স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতির অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ মাস ২০ দিনের মধ্যে তখনকার তরুণ যুবনেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠন করেন সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠন পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। এরই ধারাবাহিকতায় পরের বছর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার স্বামীবাগে কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে গঠন করা হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।

মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, টাঙ্গাইলের শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমানকে (কারাবন্দি ছিলেন) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় আওয়ামী (মুসলিম) লীগের প্রথম কমিটি। ১৯৫৫ সালে এই দল ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে। দলের নামকরণ হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।’

আওয়ামী লীগের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে বাংলার জনগণকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে স্বাধিকার আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। সেই ৬ দফা আন্দোলনের পথ বেয়েই ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ ও ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সফল নায়ক ছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

৬৬ বছরের পথপরিক্রমায় দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন রাজনৈতিক দলটিকে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরুতে হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর অনেকটা অস্তিত্ব সংকটেই পড়ে আওয়ামী লীগ। দলের ভেতরেও শুরু হয় ভাঙন। এরমধ্যে আব্দুল মালেক উকিল-জোহরা তাজউদ্দীনের দৃঢ়তায় সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করে দলটি।

১৯৮১ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে ফিরতে সক্ষম হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর এক দশক ধরে সারা দেশ ঘুরে দলকে সংগঠিত করেন তিনি। স্বৈরাচারবিরোধী তীব্র গণআন্দোলনও হয় তার নেতৃত্বে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করে দলটি। তখন থেকে টানা তিন মেয়াদে সরকারে রয়েছে আওয়ামী লীগ।

সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগ ১৯৫৪ সালে (যুক্তফ্রন্ট), ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার হিসেবে, ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের স্মরণীয় অধ্যায়ের অবসান ঘটে। এরপর ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আসেন। তারই নেতৃত্বে চার দফায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়।

আরও পড়ুন:

মাস্ক চুরির ঘটনায় চাকরি হারাচ্ছে বিমানের ১০ কর্মকর্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *