সিকিমে চীন-ভারত সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ

সিকিমে চীন-ভারত সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ, হাতাহাতি

চীন ভারত লিড নিউজ

এবার সিকিমে চীন ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। নেপাল ও ভুটানের মাঝের ভারতের এ রাজ্যের পার্বত্য এলাকার তুষার ঢাকা উপত্যকায় ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ছয় মিনিটের ওই ভিডিওটি সোমবার প্রকাশ করে এনডিটিভি। এতে দেখা যাচ্ছে, উভয়পক্ষের সেনারা শক্তি প্রয়োগ করে একে অপরকে হটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ভারত-চীন দু’পক্ষের সেনাদের মধ্যে প্রচণ্ড মারামারি চলছে। মোবাইল ফোনে তোলা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, উভয়পক্ষই তর্কাতর্কি করছে। একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি করছে। সেখানে ‘গো ব্যাক’, ‘ডোন্ট ফাইট’ জাতীয় শব্দও শোনা যায়।

এদিকে লাদাখের পরিস্থিতি ও পরিকাঠামোর পর্যালোচনা করতে চীনা সীমান্তে এসেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে। মঙ্গলবার লাদাখে লেহতে এসে পৌঁছান। দু’দিন ধরে এখানকার সেনা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।

লাদাখে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পাহাড়ি যুদ্ধের বিশেষ ক্ষমতা ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিখ, গোর্খা, ইন্দো-তিব্বত বর্ডার ফোর্সের ব্যাটালিয়নকে বেশি করে মোতায়েন করা হয়েছে। বসানো হয়েছে ভ‚মি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। মাঝে মধ্যেই লেহ থেকে উড়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে চক্কর দিয়ে আসছে যুদ্ধবিমান।

খবরে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে আর কী দরকার, কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, সংঘর্ষ হলে কী করা দরকার সেসব বিষয় নিয়ে সেনাপ্রধান আলোচনা করবেন। তিনি পুরো সেনা ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখবেন।

গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সংঘর্ষে ভারতের ২০ সেনা নিহত হয়। আহত হন আরও ৭৬ জন। ভারতীয় বিমানবাহিনীর দাবি, এক কমান্ডিং অফিসারসহ অন্তত ৪৫ জন চীনা সেনাও হতাহত হয়েছে ওই সংঘর্ষে। তবে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর এক সেনা অফিসার নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করে বেইজিং। একটি তাঁবু সরানোকে ঘিরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে যা রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।

এ ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর সিকিমে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এলো। এনডিটিভি বলছে, ছয় মিনিট ধরে এই লড়াই চলার পর তা শেষ হয়। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু জানায়নি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি। তবে গালওয়ান ভ্যালি ও প্যাংগং লেকে ভারত-চীনের সংঘাতের উত্তাপ যে সিকিম সীমান্তেও ছড়িয়েছে, তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুন:

চীনা পণ্য বয়কটের ডাকে বিপাকে ভারত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *