মানবতার খাতিরে শতাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয়

মানবতার খাতিরে শতাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয়

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

আচেহ, ইন্দোনেশিয়া- মানবতার খাতিরে শতাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিল ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা। সাগর থেকে উদ্ধার করার পর তাদেরকে আবারও সাগরে ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল আচেহ প্রদেশের স্থানীয় প্রশাসন। তবে ওই এলাকার জেলেদের প্রতিবাদের মুখে তা সম্ভব হয়নি। জেলেদের সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে জেলেদের এই উদারতার প্রশংসা করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। খবর ডয়েলেভেলের।

গত সপ্তাহের শুরুতে রোহিঙ্গা বহনকারী একটি নৌকা উদ্ধার করে আচেহ প্রদেশের জেলেরা। এরপর তাদের উপকূলের কাছাকাছি সাগরে একটি জায়গায় রাখা হয়। করোনার অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় প্রশাসন তাদের তীরে ভিড়তে দিতে চায়নি। তাই একটি নতুন নৌকায় খাবার আর জ্বালানি দিয়ে রোহিঙ্গাদের আবারও সাগরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছিল।

বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় জেলেরা প্রতিবাদ করে। তাদের প্রতিবাদের মুখে বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের তীরে নামতে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর তাদের নিজেদের গ্রামে নিয়ে যায় জেলেরা। সেখানেই তাদের দেখাশোনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলে হামদানি ইয়াকব। তিনি বলেন, ‘এটা মানবতার বিষয়। এটা আমাদের উত্তর আচেহর জেলে সমাজের ঐতিহ্যও বলতে পারেন। আমরা আশা করছি, রোহিঙ্গাদের আমাদের গ্রামে দেখা শোনা করা হবে।’

সাইফুল আমরি নামের আরেক জেলে বলেন, ‘সরকার যদি না পারে তাহলে আমরা জেলে সমাজ তাদের সহায়তা করবো। কারণ আমরা মানুষ, তারাও (রোহিঙ্গা শরণার্থীরা) মানুষ এবং আমাদের হৃদয় আছে।’ রোহিঙ্গাদের প্রতি আচেহ প্রদেশের এই জেলেদের সহায়তাকে ‘শ্রেষ্ঠ মানবতা’ (Best of humanity) বলে অভিহিত করেছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

মিয়ানমারের গণহত্যা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের ভয়াবহতায় জীবন ও সম্ভ্রম বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি  নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় খুঁজছে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা অনেক রোহিঙ্গাও অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবনের আশায় নৌকায় করে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া যেতে আগ্রহী। কিন্তু করোনার কারণে এসব দেশ সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের নৌকা তীরে ভিড়তে দিচ্ছে না। ফলে দীর্ঘদিন সাগরে ভেসে থেকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে রাষ্ট্রহীন এ জনগোষ্ঠীর বহু মানুষ।

মানবতার খাতিরে ইন্দোনেশিয়ার জেলেরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও খাতির দেখাচ্ছে না মালয়েশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন শুক্রবার জানিয়ে দিয়েছেন, তার দেশের পক্ষে আর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয়। করোনার কারণে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে যাওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আসিয়ান নেতাদের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সে যোগ দিয়ে নিজ প্রশাসনের এমন অবস্থানের জানান দেন তিনি।

রয়টার্স জানায়, করোনা মহামারির কারণে দেশের অর্থনীতিতে মন্দার কথা বিবেচনা করে নতুন করে কোনো শরণার্থীকে আশ্রয় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসলেও সম্প্রতি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আশ্রয় নিতে আসা রোহিঙ্গাদের কয়েকটি নৌকা সাগরেই ফেরত পাঠিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও অবৈধভাবে প্রবেশের সময় প্রায় শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন:

করোনা মোকাবেলায় জাপান সফল : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এবার হজে অংশ নিচ্ছে না ৪ দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *