সিরীয় প্রেসিডেন্ট কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব

প্রেসিডেন্ট কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব, তারপর..

মধ্যপ্রাচ্য

দামেস্ক, সিরিয়া- সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ফেসে গেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর এক সদস্য। এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের কিশোরী মেয়ে জেইন আসাদকে বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন ইয়াজান সোলতানি নামের এক সেনা। এই প্রস্তাব দেয়ার পরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মিডল ইস্ট মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ঘনিষ্ঠজনদের সতর্কতা উপেক্ষা করে ১৬ বছরের মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেন এই সেনা সদস্য। ভিডিওতে জেইন আসাদকে উদ্দেশ করে তাকে বলতে দেখা গেছে, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি, সত্যিই ভালোবাসি। তোমার জন্য আমি পাগল। তুমি আমার এবং আমি তোমার। আমার হয়ে যাও।’

ইয়াজান সোলতানি আরও বলেন, চিরদিন তুমি আমার হবে, জীবনের শেষ পর্যন্ত থাকবে। যা কিছুই ঘটুক তোমাকে চাওয়া আমি ছেড়ে দেব না। আরেকটি ভিডিওতে সেনা উর্দি পরিহিত অবস্থায় তিনি বলেছেন, আসাদের মেয়েকে বিয়ের জন্য তিনি যে কোনও কিছু করতে রাজি আছেন। ভিডিও প্রকাশের পর অল্প কয়েকজন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে বেশিরভাগই আসাদ পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণে বিপদের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দেযার পর মঙ্গলবার থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না সোলতানিকে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বোন। সোলতানির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানানো হয়েছে বাশার আল আসাদকে হত্যা ও ইয়াজাদের নায়ককে মুক্তি দেয়ার জন্য।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোর রাস্তায় আবার ফিরে এসেছে বিক্ষোভকারীরা – ২০১১ সালে যেখান থেকে শুরু হয়েছিল প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান। বিবিসি জানিয়েছে, এগুলো অবশ্য গণবিক্ষোভ নয় – তবে ২০১১ সালেও শুরুতে তা ছিল না। তবে শ্লোগনগুলো একই।

পুরোনো ক্ষোভ আসলে কখনোই দূর হয়নি। দেশটির দরজা এখন সাংবাদিকদের জন্য আরো বেশি বন্ধ। কিন্তু নানা আভাস-ইঙ্গিতে বোঝা যায়, দেশটিতে জীবনধারণ ক্রমশ:ই আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়ছে। এবার বিক্ষোভ শুরু হয়েছে খাদ্যাভাব নিয়ে। গত বছরের তুলনায় সিরিয়ায় খাবারের দাম এবছর দ্বিগুণ বেড়ে গেছে।

সিরিয়ার যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। দুটি বিশ্বযুদ্ধ যোগ করলে যতদিন ধরে চলেছিল – সিরিয়ার যুদ্ধ চলছে তার চেয়েো বেশি দিন ধরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমান, এই যুদ্ধে প্রায় ৭ লক্ষ লোক নিহত হয়েছে, আর যারা বেঁচে আছে তাদের ৯০ ভাগই জীবন কাটাচ্ছে দারিদ্র্যের মধ্যে।

সিরিয়ার অর্থনীতিতে এই যুদ্ধের জন্য ঠিক কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা কেউ জানে না। এক হিসেবে বলা হয় দেশটিতে যে ধ্বংসলীলা চলেছে তাতে ক্ষতির পরিমাণ ৬৩ হাজার কোটি ডলারেরও কাছাকাছি হবে। এখন যোগ হয়েছে নতুন সংকট – ক্ষুধা।

অন্যরা আরও যা পড়ছে:

লবণের সিমেন্ট বানাল আমিরাতের দুই প্রকৌশলী

ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি জাতিসংঘ-আরব লীগের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *