ঢাকায় লঞ্চডুবির ঘটনায় ৩৩ লাশ উদ্ধার

বাংলাদেশ লিড নিউজ

ঢাকা, বাংলাদেশ- ঢাকায় লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নৌ পরিবহন খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থার যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন মঙ্গলবার এ তথ্য জানান। রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে সোমবার সকাল ১০ টার সময় এ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার সোমবার (২৯ জুন) লঞ্চ ডুবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ ৭ জন নারী ও ৩ জন শিশু। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও সেনাবাহিনী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কারও নাম পরিচয় জানা যায়নি। ঠিক কতজন যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তাও স্পষ্ট নয়।

সোমবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ৩০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। এছাড়া স্থানীয়রা আরও দুজনকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার দুপুরে নদীতে ডুবে থাকা লঞ্চটির ভেতরে মর্নিং বার্ডের ইঞ্জিন গ্রিজার আশিক হোসেনের লাশ পান ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

এ নৌ দুর্ঘটনায় সব মিলিয়ে মোট ৩৩ জনের মৃতদেহ পাওয়া হয়েছে। আগে পাওয়া ৩২ জনের লাশ পরিচয় শনাক্তের পর সোমবারই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লঞ্চডুবির প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১০টার দিকে একজনকে জীবিত উদ্ধারের কথা জানায় ফায়ার সার্ভিস। এখনও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সোমবার রাতভর তল্লাশির পর এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় আবার তল্লাশি শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিতের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ এবং বিআইডব্লিউটিএর কর্মীরাও এই অভিযানে অংশ নেন।

নদীর ৬০-৭০ ফুট গভীরে উল্টে থাকা লঞ্চটিকে টেনে তুলতে ১১টি এয়ার লিফটিং ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। এর একেকটি ব্যাগ ৮টন ওজন তুলতে পারে। বিআইডব্লিউটিএর ছোট উদ্ধারকারী জাহাজ দুরন্তও এ কাজে যুক্ত ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁদপুর থেকে আসা ময়ূর-২ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লালকুঠী ঘাটে যাত্রী নামিয়ে সদরঘাটের ঘাটে গিয়ে নোঙ্গর করার জন্য ব্যাক গিয়ারে ঘুরছিল। ওই সময় পেছনে নদীতে থাকা এমভি মর্নিং বার্ডের সঙ্গে ময়ূর-২ এর ধাক্কা লাগলে তুলনামূলক ছোট মনিং বার্ড লঞ্চটি অর্ধশতাধিক (৫০) যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। লঞ্চটি থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও অনেক যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাজ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দুইতলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চটির ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক ছোট মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার কাছাকাছি এলাকায় নদীর মাঝখানে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি শনাক্ত করা হয়েছে। ভেতরে আর কারও লাশ আছে কি না, তা তল্লাশি করে দেখা হবে। তল্লাশি শেষ হলে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী নৌযান ডুবে যাওয়া লঞ্চটি টেনে তুলে সরিয়ে নেবে।

আরও পড়ুন:

সার্টিফিকেট ফেলে দেয়ায় বাড়ি মালিকের শাস্তির দাবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *