ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র

ইরানে পারমাণু কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের একটি পারমাণু কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অগ্নিকাণ্ড আর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক স্থাপনা, তেল শোধনাগার এবং বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র। এ কথা জানিয়েছেন দেশটির পরমাণু শক্তি বিভাগ। একজন মুখপাত্র বলেছেন, নাতানজে পারমাণু কেন্দ্রের আগুনের কারণ তারা জানতে পেরেছেন। কিন্তু তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

খবরে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নাতানজ পরমাণু কেন্দ্রে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যাচ্ছিল না। রোববার অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে জানাতে গিয়ে কামালবন্দি বলেন, কীভাবে ওই আগুনের সূত্রপাত নিরাপত্তাজনিত কারণেই তা বিস্তারিত বলা হচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ক্ষতিসাধন হয়েছে, তবে কারো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। 

‘এ ঘটনায় সেন্ট্রিফিউজ উন্নতকরণ ও উৎপাদনের হার আপাতত কিছুটা কমে যাবে, কিন্তু ইরান শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের জায়গায় আরও বড় পরিসরের ভবনে উন্নত যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ শুরু করবে।’ মুখপাত্র বলেন, আগুনে যেসব যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে সেগুলোর জায়গায় আরও উন্নত যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে। পারমাণবিক কেন্দ্রটির সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন ওয়ার্কশপে আগুন লেগেছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা এ দুর্ঘটনার জন্য সাইবার নাশকতাকে দায়ী করছেন।

সাধারণত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও সেন্ট্রিফিউজ রিয়েক্টর এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। ইরানের অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশনের মুখপাত্র বেহরুজ কামালভান্দি বলেছেন নিরাপত্তাজনিত কারণে কর্মকর্তারা এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন না।

ইরানের পারমাণু কেন্দ্রে আগুন ঘটনায় উল্লেখযোগ্য কিছু ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, বলেন তিনি। ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আরও কয়েকটি জায়গায় আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

কামালভান্দি বলছেন, ‘এ ঘটনা অ্যাডভান্সড সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন ও উন্নয়নের গতিকে ধীর করতে পারে… ইরান ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের জায়গায় আরও বড় ভবন করবে যাতে আরও আধুনিক উপকরণ সংযোজিত করা যায়।

কামালভান্দি বলেন, গত বৃহস্পতিবারে নির্মাণাধীন একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল শেডে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। পরে প্রকাশ করা একটি ছবিতে দেখা যায় ভবনটি আগুনে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। পরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষকরা এটিকে নতুন সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কারখানা হিসেবে শনাক্ত করেন।

রয়টার্স ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলছে যে তারা বিশ্বাস করেন এটি সাইবার অ্যাটাকের ঘটনা, তবে তারা কোন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ইরানের পারচিন মিলিটারি কমপ্লেক্সের কাছে বিস্ফোরণের ছয়দিন পর নাতানজের আগুনের ঘটনা ঘটলো। ইরান কর্তৃপক্ষ সেখানে গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন স্যাটেলাইটে তোলা ছবি থেকে দেখা যাচ্ছে যে এর কাছে মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র আছে।

পারচিন তেহরানের কাছের একটি জায়গা। পশ্চিমা শক্তিগুলো এটিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা মনে করে। ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ দাবি করে।

আরও পড়তে পারেন:

ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি জাতিসংঘ-আরব লীগের

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতি বিদ্রোহীদের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *