১১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে

আমেরিকা লিড নিউজ

যুক্তরাষ্ট্রে অনিশ্চিয়তার মুখে পড়েছে দেশটিতে অধ্যয়নরত ১১ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জীবন। অনলাইনে ক্লাস করা ছাত্রছাত্রীদের ভিসা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এর ফলে এসব শিক্ষার্থীকে শিগগিরই নিজ নিজ দেশে ফিরতে হতে পারে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা দিয়েছে, করোনা মহামারীর কারণে এখন থেকে শিক্ষার্থীদের আর শারীরিকভাবে ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে না। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে সকল ক্লাস অনলাইনে নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এমন সিদ্ধান্তকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। বিবিসি ও সিএনএন।

করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে না আসায় আগামী সেমিস্টারে হার্ভাড সহ দেশের সব নামীদাম বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধু মাত্র অনলাইন ক্লাস নেয়ার কথা ভাবছে। এই কার্যক্রম চালু হলে বিদেশী ছাত্র ছাত্রী যারা এফ-১ ও এম-১ ভিসা স্টেটাস নিয়ে এসে পড়শুনা করছে তাদের কে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যেতে হবে।

ইউএস ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টম ডিপার্টমেন্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানিয়েছে। অন্যথায় তাদেরকে ডিপোর্টেশান বা জোরপূর্বক দেশে পাঠিয়ে দেয়া হতে পারে। এ অবস্থা থেকে তাদের পরিত্রাণের এক মাত্র উপায় হচ্ছে এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যারা অন ক্যাম্পাস ক্লাস চালু রাখবে।

সরকারের এমন আচরনকে অপরিপক্ষ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সরকার এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে মেধাবি ছাত্র ছাত্রীরা অন্য কোন দেশে চলে যাবেন যেখানে তারা এই সকল বাঁধা নিষেধের মুখে পড়বে না।

সংস্থাটির এমন ঘোষণার ফলে ১১ লক্ষাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী যারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন বা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে বসবাস করছেন তারা শঙ্কায় পড়েছেন বলে মঙ্গলবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। করোনা মহামারীর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে। উদাহরণস্বরুপ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সব কোর্স অনলাইনে পড়ানো শুরু করেছে। এমনকি সেখানকার আবাসিক শিক্ষার্থীদেরও অনলাইনে ক্লাস করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আকর্ষণীয় স্কলারশিপ দেয়ার কারণে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য। যে দেশটি সারা বিশ্ব থেকে শিক্ষার্থীদের নিতো এখন তারাই দেশ ত্যাগ করতে বলছে।

এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এমন একজন শিক্ষার্থী ভ্যালোরিয়া ম্যান্ডিওলা। তিনি হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলে অধ্যায়নরত। ভ্যালোরিয়া সিএনএনকে বলেন, অভিবাসন বিভাগের এই সিদ্ধান্ত খুবই হতাশাজনক। যদি আমাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয় তাহলে আমি আমার দেশ মেক্সিকো যেতে পারবো। কিন্তু এখানে অনেক শিক্ষার্থীই আছেন যারা এই মুহূর্তে তাদের দেশে ফিরতে পারবেন না।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের যাবতীয় কোর্স অনলাইনে নেয়ার সিদ্ধান্তের দিনই শিক্ষার্থীদের দেশত্যাগ সংক্রান্ত এ নির্দেশনা জারি করে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট। সংস্থাটির এমন নির্দেশনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ল্যারি ব্যাকাউ।

ল্যারি ব্যাকাউ বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-এর জারি করা নির্দেশনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিশেষত অনলাইন প্রোগ্রামগুলোর শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার ঘোষণার ব্যাপারে উদ্বেগ রয়েছে। এটি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি জটিল সমস্যা।

ব্যাকাউ আরও বলেন, ‘আমাদের ছাত্ররা যাতে বছরের মধ্যবর্তী সময়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য না হয়, তাদের একাডেমিক অগ্রগতি যেন ব্যাহত না হয় এবং এ ধরনের ভীতি ছাড়াই যাতে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিতকল্পে সাধ্যমতো আমাদের যাবতীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’

বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দেশের একটি যেসব দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়। গত শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি।

আরও পড়ুন:

চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধে ভাবছে আমেরিকাও

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণবাদের প্রতীক ফাঁস চিহ্ন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *