অ্যানসমিয়া

মানুষের ঘ্রাণশক্তি গ্রাস করছে করোনাভাইরাস: গবেষণা

অন্যান্য

করোনাভাইরাস ঘ্রাস করছে মানুষের ঘ্রাণশক্তি। করোনায় আক্রান্ত হলে চিরতরে ঘ্রাণশক্তি নষ্ট হতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে। করোনা থেকে রক্ষা পেলেও এতে সৃষ্টি হচ্ছে ‘অ্যানসমিয়া’।

অ্যানসমিয়া হল মানুষের ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে যাওয়া। এই প্রতিবন্ধকতা আলাদা করে চোখে পড়ে না। কিন্তু পঞ্চেন্দ্রিয়ের একটি চিরকালের মতো অকেজো হয়ে যাওয়া যে কী, তা শুধু জানে ভুক্তভোগী। ড. মাইকেল মেইলার্ড জানান, অ্যানসমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের ঘ্রাণশক্তি সম্পূর্ণ রূপে হারিয়ে ফেলতে পারেন। দুর্ভাগ্যক্রমে এই রোগের কোনও চিকিৎসা নেই বলেও জানান ড. মেইলার্ড।

কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়ে উঠার পর এমন পরিণতি হচ্ছে অনেকেরই। জুন মাসের শুরুতেই স্বাদ ও ঘ্রাণশক্তি হারানোর মতো উপসর্গ নিয়ে প্যারিসের বিভিন্ন হাসপাতালে বেশ কয়েকজন করোনা আক্রান্ত রোগি ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু তাদের অনেকেই করোনা-মুক্ত হওয়ার পরেও ফিরে পাননি তাদের স্বাভাবিক ঘ্রাণশক্তি।

প্যারিসের বাসিন্দা জঁ-মিশেল মেলার্ড বললেন, ‘কোনও কিছুর গন্ধ পাচ্ছি না। সব চেয়ে কষ্ট হচ্ছে ছেলের জন্য। ওকে জড়িয়ে ধরা… ওর গায়ের গন্ধটা সব চেয়ে প্রিয় ছিল।’ কারও কারও ক্ষেত্রে সমস্যাটা সাময়িক হলেও, অনেকের দীর্ঘকালীন ক্ষতি হচ্ছে। জঁ-মিশেল মেলার্ড বলেন, ‘‘জীবনের গন্ধটাই চলে গিয়েছে। ঘ্রাণ এমনই, যা না-থাকলে তবেই আপনি তার গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।’’

প্যারিসের এক চিকিৎসক অ্যাল্যাঁ করি বলেন, ‘খেতে বসে আমরা তো শুধু স্বাদের বাহার পাই, এমন নয়। সুখাদ্যের গন্ধেও আলাদা আমেজ রয়েছে।’ নাকের ভিতরে পলিপ থাকলে, কিংবা ডায়াবিটিস, অ্যালঝাইমার্স ও পার্কিনসনসের মতো অসুখ হলে অনেক সময় রোগীরা ঘ্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলেন।

এবার সেই রোগের তালিকায় সংযোজন হল কোভিড-১৯। এ রোগের উপসর্গের মধ্যেও রয়েছে গন্ধ না-পাওয়া। সেটাই চিরস্থায়ী হয়ে যাচ্ছে কারও কারও ক্ষেত্রে। অ্যাল্যাঁর কথায়, ‘প্রথম দু’মাসে বিষয়টা সমস্যার পর্যায়ে থাকে। তার পর ধীরে ধীরে চেপে বসতে থাকে মানসিক ভাবে। আগের সুস্থ-সুন্দর জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা হয়ে পড়া।’

আরও পড়ুন:

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পেশ

হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারে না: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *