কাসেম সোলেমানি হত্যার বিচার হতেই হবে: জাতিসংঘ

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানি হত্যার বিচার হতেই হবে। তাকে বিচারবহির্ভূত ও অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে জাতিসংঘ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাক সফরকালে ড্রোন হামলা চালিয়ে সোলেমানিকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।

জাতিসংঘ বলছে, সোলেমানিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে অস্ত্রবহনকারী ড্রোনের মাধ্যমে। এই হামলার জন্য দোষীদের বিচার হতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ তদন্ত শেষ করেছে জাতিসংঘ। তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।

বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদনের সারাংশে তিনি উল্লেখ করেছেন, কাসেম সোলেমানিকে হত্যার, অর্থাৎ তিনি ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বিমানবন্দর থেকে যখন বের হচ্ছিলেন, তার সেই গাড়িবহরে হামলার কোনো কারণ দেখাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার পক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণও হাজির করতে পারেনি দেশটি।

অ্যাগনেস ক্যালামার্ড ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, অস্ত্রবহনকারী ড্রোনের মাধ্যমে সোলেমানিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হামলার জন্য দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ক্যালামার্ড আরও লিখেছেন, এই হামলা জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট লংঘন।

ক্যালামার্ড বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বাধীনভাবে তদন্ত করে থাকেন। এর আগে তুরস্কের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার তদন্তেও তিনি জড়িত ছিলেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, বিশ্ব একটি কঠিন সময়ের মধ্যে রয়েছে, বিশেষ করে যখন এমন ড্রোন ব্যবহার করা হয়।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের বাইরে মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় প্রাণ হারান ইরানের ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেমানি ও ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের উপ-প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ ১০ সামরিক কর্মকর্তা। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরাকে দুই মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।

সোলেমানিকে হত্যার পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও দুই দেশ যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম হয়। গত সপ্তাহেই সোলেমানি হত্যায় সহযোগিতাকারী এক মার্কিন গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ইরান। গুপ্তচর ইরানেরই নাগরিক। সোলেমানির গোপন তথ্য আমেরিকার হতে তুলে দেয়ার মামলায় সাইয়েদ মাহমুদ মৌসাভি মজিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় বিচার বিভাগ।

বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলাম হোসেইন ইসমাইলি জানান, মাজিদ সোলাইমানি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হাতে নগদ টাকার বিনিময়ে তথ্য তুলে দেয় মাজিদ। কিন্তু বিচার বিভাগের মিডিয়া অফিস জানায়, সোলাইমানি হত্যার সময় মাজিদ জেলে ছিল।

ইসমাইলি বলেন, রেভ্যুলেশনারি আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ও পৃথক আদালতের দ্বারা দোষী সাব্যস্ত নিশ্চিত হওয়ার পরে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে। ইসমাইলি আরও জানান, সিআইএ এবং মোসাদের অন্যতম গুপ্তচর মাহমুদ মুসভী মাজিদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

`তিনি আমাদের শত্রুর হাতে কাসেম সোলেমানির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিলেন। মাজিদ ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও বিশেষত রেভ্যুলেশনারি গার্ড সম্পর্কে ইসরাইল এবং আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য পাচার করেছেন।’

আরও পড়ুন-

ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে আগুন: ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

তুরস্কে খাসোগি হত্যার বিচার শুরু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *