৬ হাজার ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল

বাংলাদেশ লিড নিউজ

ঢাকা, বাংলাদেশ- করোনার ৬ হাজার ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল। সোমবার (৬ জুলাই) হাসপাতালটির উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‍্যাব। বেরিয়ে আসে বিস্ময়কর সব তথ্য। টেস্ট না করেই দিত ভুয়া রিপোর্ট। বিনামূল্যে চিকিৎসার কথা থাকলেও হাতিয়ে নিত টাকা।

অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হওয়ায় রাজধানীর হাসপাতালটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের উপস্থিতিতে হাসপাতালটিকে সিলগালা করা হয়এছাড়া ৬ বছর আগে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এছাড়া মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতালও সিলগালার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান সারোয়ার আলম।

আরও পড়ুন

ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত ৩০০ ছাড়াল

এবার ট্রেনে চড়বে কোরবানির পশু

এ অবস্থাতেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দিয়েছিল বিশেষায়িত কোভিড হাসপাতালের স্বীকৃতি। এসব তথ্য উঠে আসে চ্যানেল ২৪-এর সার্চলাইটের অনুসন্ধানে। পরে এর উপর ভিত্তি করে অভিযানে যায় র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সারোয়ার আলম জানিয়েছেন, করোনার টেস্ট না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিত রিজেন্ট হাসপাতাল। অভিযানে অসংখ্য ভুয়া রিপোর্টের কাগজ, বিলসহ নানা অনুষঙ্গ জব্দ করা হয়েছে। হাসপাতালটির নিবন্ধনের মেয়াদও ২০১৪ সালে শেষ হযেছে। তারপরও সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একে কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসাবে অনুমোদন দিয়েছে।

সিলগালা করে দেয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো: শাহেদ। বহুমুখী প্রতারক শা‌হেদ দীর্ঘ অনেক বছর ধ‌রে তার প্রতারণা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইদানীং বিভিন্ন টিভিতে মধ্যরাতের টকশোতে এসে নীতিবাক্য বলে নিজেকে বুদ্ধিজীবি এবং আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগ সেজে জাহির করেছে।

বর্তমানে মোঃ শাহেদ/সা‌হেদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকলেও তার আসল নাম কিন্তু মোঃ শাহেদ করিম, পিতাঃ সিরাজুল করিম, মাতাঃ মৃত সুফিয়া করিম। শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএস‌সি। তার মা মৃত্যুবরন করেন ৬ নভেম্বর, ২০১০ সালে। 

প্রতারক শা‌হে‌দের একাধিক নাম রয়েছে। সে কখনো কখ‌নো মেজর ইফতেকার আহম্মেদ চৌধুরী, ক‌র্ণেল ইফতেকার আহম্মেদ চৌধুরী, কখ‌নো মেজর শাহেদ করিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকে। কিন্তু তার আসল নাম জাতীয় পরিচয় পত্রে শাহেদ করিম লেখা।

কিন্তু বর্তমানে সে মোঃ শাহেদ নামে আরেক‌টি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে যার নাম্বার হল- ২৬৯২৬১৮১৪৫৮৮৫। আর এ জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয় ২৫-৮-২০০৮ইং। কিন্তু তাতে তার মা মারা গেছে লেখা রয়েছে, অথচ তার মা মৃত্যুবরন করেন ০৬ নভেম্বর ২০১০ইং। তাতেই প্রমাণ হয় এটাও ভুয়া। 

ঠিকানা হরনাথ ঘোষ রোড, লালবাগ, ঢাকা-১২১১ রয়েছে। গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরা জেলায়। এক নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়েও প্রতারণা বাটপারি করে আজ শত শত কোটি টাকার মালিক। বিএনপি সরকারের আমলে রাজাকার মীর কাসেম আলী ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাথে সর্ম্পক গড়ে তা‌দের মাধ্য‌মে তা‌রেক জিয়ার হাওয়া ভব‌নের অন্যতম কর্তাব্য‌ক্তি হ‌য়ে উ‌ঠে সে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *