ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করল নেপাল

লিড নিউজ

এবার ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করল নেপাল। সীমান্তে বিতর্কিত ভূখণ্ড মানচিত্র নিয়ে বিবাদের জেরে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সরকার। ভারতীয় মিডিয়ায় দেশের সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রোপাগান্ডা চালানোর অভিযোগ তোলেন নেপালের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ও নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নারায়ণ কাজি শ্রেষ্ঠা । এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল নেপাল সরকার।

বিতর্কিত লিমপিয়াধুরা-কালাপানি-লিপুলেখ অঞ্চল নিয়ে ভারত ও নেপালের সম্পর্ক গত কয়েকদিনে অবনতি হয়েছে। এমনকী সীমান্তেও উত্তেজনা বাড়ছিল। এর মধ্যে নেপালে ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলে দিল।

জি নিউজ জানিয়েছে, এখন একমাত্র দূরদর্শন চ্যানেলই নেপালে দেখা যাবে। এছাড়া কোনও টিভি চ্যানেল সেখানে চলবে না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে নেপালে ভারতের সব চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়।  দিনকয়েক আগে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির প্রধান উপদেষ্টা বিষ্ণু রামাল বলেন, ভারতের সংবাদ মাধ্যমে নেপালের সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও আপত্তিজনক খবর দেখানো হচ্ছে।  নেপালের প্রধানমন্ত্রী আবার দাবি করেছিলেন, তাঁকে উৎখাত করার জন্য ভারতে গোপন বৈঠক হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নেপালের কেবল অপারেটর মেগা ম্যাক্স টিভির ধ্রুব শর্মা এএনআই কে জানান, সরকারে নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য নেপালে ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যে নেপালের পার্লামেন্টে সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। তাতে নতুন মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতের একাধিক ভূখণ্ড সেখানে নিজেদের বলে দাবি করেছে নেপাল। এই নিয়ে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে।

বাংলাদেশেও ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করার দাবি জোরদার হচ্ছে।এর আগে ২০১৭ সালে তিনটি ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার প্লাস, স্টার জলসা ও জি বাংলা বন্ধ করতে যে রিট আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

ভারতীয় টেলিভিশনের চ্যানেলগুলোর বিশাল সংখ্যায় দর্শক রয়েছে বাংলাদেশে। বিজ্ঞাপন বাজার হাতছাড়া ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের অভিযোগে বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন যাবত বিনোদন জগতের অনেকেই ভারতীয় কিছু চ্যানেল বন্ধ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।

কিন্তু কেন বাংলাদেশি চ্যানেলগুলো ভারতের এই বাংলা চ্যানেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছে না- এমন প্রশ্ন সামনে রেখে বিবিসি জানায় যে তিনটি ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল নিয়ে প্রশ্ন সেই স্টার প্লাস, স্টার জলসা এবং জি বাংলা -বাংলাদেশি দর্শকদের একটি বড় অংশের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে তো বটেই।

২০১৬ সালের করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের এক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে নারীদের ৯০ শতাংশ টেলিভিশন দেখেন। কিন্তু এদের ৬০ শতাংশই দেখেন স্টার জলসা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন ও ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক টেলিভিশন ও ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক শফিউল আলম ভুঁইয়া মনে করেন এর পেছনে একাধিক কারণ আছে।

তিনি বলেন, ‌‘বাংলাদেশে চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপনের আধিক্য একটি কারণ। পরিমাণের দিক থেকে ভারতের চ্যানেলে বিজ্ঞাপন কম। আরেকটি কারণ হচ্ছে অবশ্যই অনুষ্ঠানের মান। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ভারতীয় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, সেগুলোর বিষয়বস্তু, বিশেষ করে অভিনয়ের মান উন্নততর। আমাদের অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীর অভিনয় খুব ভাল হলেও আমাদের চ্যানেলের সংখ্যাও অনেক – তাই আমাদের কোয়ালিটির একটা অভাব পরিলক্ষিত হয়’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *