ভারতে গুন্ডা সর্দার বিকাশ দুবে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ভারত লিড নিউজ

ভারতের উত্তরপ্রদেশে গুন্ডা সর্দার বিকাশ দুবে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। ৮ পুলিশ হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন দুবে বৃহস্পতিবার বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বলে জানিয়েছে কানপুর পুলিশ। শুক্রবার সকালে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কানপুর অঞ্চলের পরিচিত অপরাধী বিকাশ দুবে। গুন্ডা সর্দার বলেও তার পরিচিতি রয়েছে। প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে সে নানা অপরাধমূলক কাজ জড়িত, যার মধ্যে হত্যার অভিযোগও আছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৬০টি মামলা ছিল।

আটদিন ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ দাবী করেছিল। তবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, না কি সে আত্মসমর্পণ করেছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মধ্যপ্রদেশ থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয়ার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ যখন শুক্রবার তাকে কানপুরে নিয়ে আসছিল, সেই সময়ে তাদের গাড়িটি দুর্ঘটনায় উল্টে যায়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর একটি মন্দির থেকে গ্রেপ্তারের পর বিকাশকে নিয়ে উত্তর প্রদেশে ফিরছিল তাদের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) গাড়িবহর। ওই দুর্ঘটনার পরপরই বিকাশ এক পুলিশ সদস্যের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে কাছাকাছি একটি মাঠের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

ভারতকে চীনের নতুন হুশিয়ারি

ভারতীয় ওয়েবসাইটে চীনের নিষেধাজ্ঞা

এক বিবৃতিতে কানপুর পুলিশ বলেছে, পুলিশ সদস্যরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হলেও, তিনি তা না করে উল্টো পুলিশ সদস্যদের দিকে গুলি ছোড়েন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়লে বিকাশ গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

গাড়ি উল্টানোর ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। কাছাকাছি একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাদেরকে ভর্তি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ৮ পুলিশকে হত্যার পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন বিকাশ। বৃহস্পতিবার উজ্জয়িনীর মন্দির থেকে গ্রেপ্তারের আগে চারটি রাজ্যে তাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে পুলিশ।

বিবিসি জানিয়েছে, উজ্জয়িনীর একটি দোকান থেকে পূজার সামগ্রী কেনার সময় দোকানদার তাকে চিনে ফেলেন। ওই দোকানদারই পরে মন্দিদের নিরাপত্তা রক্ষীদের সতর্ক করে দেন। পূজা সেরে বিকাশ মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় রক্ষীরা তার পরিচয় জিজ্ঞেস করে। সে ভুয়া একটি পরিচয়পত্র দেখায়। রক্ষীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।

কানপুরে বিকাশের গ্রাম বিকারুতে পুলিশের ওপর হামলার পর থেকে পুলিশের এনকাউন্টারে তার বেশ কয়েকজন সহযোগীও নিহত হয়েছে। ঘটনার পরেই এই বন্দুকযুদ্ধ আর তাতে গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের মারা যাওয়া নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব আর মায়াবতী – অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অখিলেশ যাদব টুইট করে লিখেছেন, ‘গাড়ি উল্টায় নি। রহস্য ফাঁস হলে সরকারটাই উল্টে যেত। সেটা বাঁচানো গেছে।’

‘অপরাধী তো শেষ হয়ে গেল। কিন্তু অপরাধ আর তাকে রক্ষা করছিলেন যারা, তাদের কী হবে?’ টুইটারে প্রশ্ন তুলেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফেক এনকাউন্টার হ্যাশট্যাগ দিয়ে হাজার হাজার টুইট করা হয়েছে, প্রশ্ন উঠেছে বন্দুকযুদ্ধে বিকাশ দুবের নিহত হওয়ার ‘কাহিনী’ কতটা সত্য, তা নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *