দিল্লিতে তাবলীগের ৮২ বাংলাদেশি জামিন পেয়েছে

লিড নিউজ

দিল্লিতে জামিন পেল তাবলীগের ৮২ বাংলাদেশি। দিল্লির নিজামউদ্দিন এলাকার মারকাজে (তাবলীগের প্রধান কেন্দ্র) সমাবেশে অংশ নেয়া ওই ৮২ বাংলাদেশিকে জামিন দিয়েছে ভারতের একটি আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ভিসার শর্তের অপব্যবহার করার পাশাপাশি করোনাভাইরাসের সময়ে সরকারের ঘোষিত নীতিমালা অগ্রাহ্য করে সমাবেশে যোগ দেয়ার অভিযোগ ছিল।

ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই শুক্রবার জানিয়েছে, ভারতে লকডাউনের সময় দিল্লির নিমাজউদ্দিন মারকাজে ইজতেমায় যোগ দেয়ার পর ৮২ জন বাংলাদেশিকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। শুক্রবার দিল্লির একটি আদালত তাদের জামিন দিয়েছে।

দিল্লির চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গুরমোহিনা কাউর প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকার বন্ডে নিজ মুচলেকায় জামিনে মুক্তি দেন। শুনানি চলাকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে উপস্থিত করা হয়েছিল আটক বাংলাদেশিদের।

আরও পড়ুন

মোদীর শুভেচ্ছাবার্তার জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বললেন…

শান্তি চেয়ে লাদাখের সিন্ধু নদে পূজা দিলেন মোদি

বাংলাদেশিদের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশিমা মন্ডল ও মন্দাকিনি সিং জানিয়েছেন, শুক্রবার আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জবাব দিয়েছেন আসামিরা। এতে তারা দোষ স্বীকার করে লঘুদণ্ডের আবেদন করেছেন।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বাংলাদেশি এসব নাগরিকদের বিরুদ্ধে করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় তাবলীগ-জামাতে যোগ দিয়ে ভিসা শর্ত ভঙ্গ, অবৈধভাবে ধর্মপ্রচার কাজে যোগদান এবং সরকারের বিধি ভঙ্গ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কোনো অপরাধ সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে প্রভাবিত না করলে এবং কোনো নারী বা ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধ না হলে দোষ স্বীকার করা হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির মারকাজে মার্চ মাসের সমাবেশে উপস্থিত মালয়েশিয়ার ১২২ জন তাবলীগ জামাত সদস্যকে গত বুধবার জামিন দেয়া হয়েছে। সূত্রটি জানিয়েছে, মারকাজে অংশ নেয়া সবার বিরুদ্ধে ভিসা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাই তাদের কালো তালিকাভুক্ত করে বেশ কয়েক বছরের জন্য আর ভারতীয় ভিসা দেয়া হবে না।

ভারতে করোনা ছড়িয়ে পড়ে মূলত চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে। এর প্রায় দুই মাস পর মার্চ মাসে রাজধানী দিল্লিতে তাবলীগ জামাতের সদর দফতরে হাজার হাজার লোকের একটি সমাবেশ হয়। সেখান থেকে অসংখ্য মানুষের ভেতর করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দেয়। কিন্তু গোটা বিষয়টি নিয়ে তীব্র সাম্প্রদায়িক বিতর্ক শুরু করে দেশটির একটি মহল।

ওই সমাবেশে যোগ দেয়া তাবলীগের বেশ কিছু সদস্য করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াতে কেউ কেউ দাবি করতে থাকে, তাবলীগের ওই সমাবেশ থেকে ভারতে করোনা ছড়িয়েছে। লকডাউন বিধি চালু থাকাকালীন এভাবে এক জায়গায় হাজার হাজার লোক এনে সমাবেশের আয়োজন করে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের একটি বিশেষ সেক্ট (তাবলীগ) বিরাট অপরাধ করেছে – ভারতে অনেকেই বিষয়টিকে সেভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করে

নরেন্দ্র মোদীর ক্যাবিনেটের একমাত্র মুসলিম সদস্য ও বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি পর্যন্ত মন্তব্য করেন, এই ধরনের সমাবেশ আয়োজন করে তাবলীগ জামাত একটি ‘তালেবানি মাপের অপরাধ’ করেছে।এটাকে একটা ‘ক্ষমার অযোগ্য পাপ’ বলে বর্ণনা করতেও তিনি দ্বিধা করেননি।

সর্বভারতীয় বিভিন্ন টিভি চ্যানেলেও তাবলীগ তথা মুসলিম সমাজকে আক্রমণ করে একের পর এক অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়।তার কোনওটির নাম, ‘ধর্মের নামে এ কোন প্রাণঘাতী অধর্ম?’। কোনও টিভি অনুষ্ঠানের নাম দেয়া হয়, ‘করোনা-জিহাদ থেকে দেশকে বাঁচাও!’ বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কের ইঙ্গিতটা খুব স্পষ্ট। আর সেটা হচ্ছে, ইসলামী জিহাদের নামে একটা শ্রেণী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে ভারতকে বিপদে ফেলতে চাইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *