কাসেম সোলাইমানি

সোলেমানির চিন্তাধারা বেশি ভয় পায় যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

ইরানের কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানির চেয়ে তার চিন্তাধারা বেশি ভয় পায় যুক্তরাষ্ট্র।এমনটাই মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি। সোলেমানিকে নিয়ে সাবেক মর্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনসহ দেশটির কর্মকর্তাদের কটুক্তির জবাব দিয়ে মুসাভি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কাসেম সোলাইমানির আকাঙ্ক্ষা ও চিন্তাধারাকে বেশি ভয় পায়।

শুক্রবার তেহরানে তিনি বলেন, অপরাধীরা তাদের জঘন্য অপরাধের ব্যাখ্যা দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেই। এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু যে বিষয়টি চরম দুঃখজনক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্র্যাজ্যবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ তা হচ্ছে, দেশটি সোলেমানি হত্যা তদন্ত নিয়ে জাতিসংঘের মত প্রধান বিশ্ব সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কেও ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিতে ছাড়েনি।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি অ্যাগনেস ক্যালামার্ড তার তদন্ত প্রতিবেদনে জানান, কাসেম সোলাইমানিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ ঘোষণা লংঘন করেছে। এ ঘটনার বিচার হতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি বলেন, সোলাইমানি কতটা উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন তা বোঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সবচেয়ে ইতর প্রকৃতির কিছু মানুষ ও আইন ভঙ্গকারী কিছু দেশ তার শত্রু ছিল।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মরগ্যান অর্থাগুজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার জাতিসংঘের এই তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রত্যাখান করেছেন। এ ছাড়া, সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে গেছে; কাজেই ওই পরিষদের কাছে জবাবদিহি করতে দায়বদ্ধ নয় ওয়াশিংটন।

বিশ্বের দরবারে চৌকস সমরবিদ জেনারেল কাসেম সোলেমানি; যিনি বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন।কিন্তু তিনি কেন যুক্তরাষ্ট্রের টার্গেট কিলিং পরিকল্পনায় ছিলেন?

বলা হয়ে থাকে, ইরানের বিশেষ গোপন অভিযানিক দল কুদস ফোর্স। ‘অপ্রচলিত যুদ্ধের’ জন্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে এটি। ইতোমধ্যে এর সামরিক অবদান ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে। ইরানের বৈশ্বিক উত্থানের পেছনেও এই ফোর্সের কাজ অপ্রতিরোধ্য। যা কি-না প্রতিষ্ঠা করে আবার সুচারু পরিচালনা করছিলেন কাসেম সোলেমানি। আর তিনি এই বাহিনীর পুরো কাজের জন্য জবাবদিহি করতেন শুধু দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যে সামরিক প্রভাব তৈরি করতে চাইছে, তার মূল কারিগর এই কুদস ফোর্স। অর্থাৎ ইরাকে এক ধরনের প্রভাব তৈরি করা, সিরিয়াতে প্রভাব তৈরি করা, লেবাননে প্রভাব তৈরি করা, বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ইরানের যে যোগাযোগ আছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, সেখানেও সোলেমানির একটা বড় ধরনের ভূমিকা ছিল বলে পশ্চিমারা ধারণা করে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, ইরান কোন দেশের সঙ্গে কী আচরণ করবে, কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সেখানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের কোনো দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও শেষ কথাটি কিন্তু জেনারেল সোলেমানিই বলতেন। অর্থাৎ তিনি যে মতামত দিতেন, সেটিই গ্রহণ করা হতো এবং সে অনুযায়ীই ইরানের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা হত। এজন্য সোলেমানির চিন্তাধারা ভয় পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব।

সোলেমানিকে ইরানের জাতীয় বীর মনে করা হয়। তিনি ইরান কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। তার নেতৃত্বেই দেশের সামরিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন হতো। এছাড়া তিনি গত মার্চেও ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক পদক ‘অর্ডার অব জুলফিকার’ এ ভূষিতে হয়েছিলেন। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন  চ্যানেলে কিছুক্ষণ পরপরই তার ছবি আসতো এবং তাকে নিয়ে নানা সংবাদ থাকতো।

আরও পড়ুন-

কাসেম সোলেমানি হত্যার বিচার হতেই হবে: জাতিসংঘ

ভারতের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ দুবে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *