অবৈধপথে ইতালি পৌঁছাল ৩৬২ বাংলাদেশি

বাংলাদেশ লিড নিউজ

অবৈধপথে ইতালি পৌঁছাল ৩৬২ বাংলাদেশি। সাগর পাড়ি দিয়ে গত দুইদিনে ইতালির মাটিতে পা রেখেছে পাঁচ শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী। এদের মধ্যে ৩৬২ জন বাংলাদেশের নাগরিক। শুক্রবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ইতালীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালে সমুদ্র শান্ত থাকার সুযোগে চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই অবৈধপথে ইতালি যাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গত বছরের তুলনায় সেখানে অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের হার বেড়েছে কয়েকগুণ।

আইওএম জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার তিউনিশিয়া থেকে ১১৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপে পৌঁছেছে নয়টি নৌকা। শুক্রবার তিউনিশিয়া থেকে সাতটি ছোট নৌকা ও লিবিয়া থেকে দু’টি বড় নৌকায় ইতালি পৌঁছেছেন আরও ৪৩৪ জন।

আরও পড়ুন- ৬ হাজার ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে রিজেন্ট হাসপাতাল

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থাটির তথ্যমতে, লিবিয়া থেকে যাওয়া একটি নৌকায় ৯৫ জন এবং অপর নৌকার ২৬৭ জন, মোট ৩৬২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশের নাগরিক। ইতালির মাটিতে পা রাখা অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কীভাবে দেশটিতে পৌঁছেছেন সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তথ্য জানাননি ইতালীয় কোস্ট গার্ড।

জানা গেছে, চলতি বছরে এ পর্যন্ত আট হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী অবৈধপথে ইতালি পৌঁছেছেন। গত বছর একই সময়ে এর সংখ্যা ছিল মাত্র তিন হাজারের মতো। তবে ২০১৮ সালে একই সময়ে ইতালি গিয়েছিলেন প্রায় ১৭ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী।

এদিকে, গত সপ্তাহে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা ১৮০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দিয়েছিল ইতালি। এদের মধ্যেও অনেক বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীকে সিসিলি উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে সবাইকে।

এদিকে ইতালির সংবাদমাধ্যম এখন বাংলাদেশ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশ সরগরম। বাংলাদেশ এর আগে কখনো এতোটা গুরুত্ব পায়নি। কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৩৬ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। এরপর বাংলাদেশিদের ইতালিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

রোমের ফিউমিসিনো বিমানবন্দরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে ১২৫ জন বাংলাদেশিকে নামতেই দেয়া হয়নি। তাদের আবারো ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইতালির বহুল প্রচারিত ইল মেসেজ্জারো পত্রিকায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে টাকার বিনিময়ে করোনাভাইরাস নেগেটিভ সনদ বিক্রি হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ নিয়ে মিথ্যে নেগেটিভ সনদের কারণে ইতালি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বাংলাদেশে ভুয়া কোভিড-১৯ সনদের পেছনে প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি রয়েছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে ইল মেসেজ্জারো পত্রিকায় বলা হয়েছে, ৩৫০০টাকা থেকে ৫০০০ হাজার টাকার মধ্যে কোভিড-১৯ এর ভুয়া সনদ পাওয়া যায়।

ইতালির আরেকটি বহুল প্রচারিত লা রিপাবলিকা পত্রিকায় বলা হয়েছে, ল্যাজিও শহরে ১৪টি নতুন সংক্রমণের কেস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি কেস দেশের বাইরে থেকে এসেছে। এ নয়জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশ থেকে এসেছে বলে লা রিপাবলিকা পত্রিকায় বলা হয়েছে। রোম এয়ারপোর্ট থেকে ১২৫ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আরেকটি প্রতিবেদন করেছে লা রিপাবলিকা পত্রিকা।

ইতালির সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে গত ৬ জুন বাংলাদেশ থেকে ২৭৬ যাত্রী নিয়ে যে বিমানটি রোমে অবতরণ করেছিল সেখানে ৩৬ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ইতালি।

আরও পড়ুন-

মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় সাহারা খাতুন

চৌগাছায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *