করোনা যেভাবে পুরো শরীরই ক্ষতিগ্রস্ত করে

পুরো শরীরই ক্ষতিগ্রস্ত করে করোনা

অন্যান্য লিড নিউজ

করোনা প্রাথমিকভাবে ফুসফুসকে আক্রমণ করে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে ফুসফুস ও শ্বাসনালী থেকে শুরু হলেও পুরো শরীরই ব্যাপক ক্ষতি করে এই ভাইরাস। যার মধ্যে এমনকি হৃদযন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি, লিভার, ত্বক এমনকি খাদ্যতন্ত্রও আছে৷ এর শক্ত প্রমাণও পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ এখানেই শেষ নয়৷ স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় মস্তিস্কেরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়৷ সিএনএন ও ডয়েচেভেলে।

করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ রোগ অধিকাংশ মানুষের জন্যই ভয়াবহ নয়। কিন্তু এতে আবার অনেকেই মারা যাচ্ছে। ভাইরাসটি কিভাবে দেহে আক্রমণ করে, কেন এই রোগে মারা যায়, তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। যতই দিন যাচ্ছে, এ নিযে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। শুক্রবার করোনা বিষয়ক বেশ কয়েকটি গবেষণা রিপোর্ট পর্যালোচনা করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির পুরো শরীরই ক্ষতিগ্রস্ত করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভয়াবহ করোনাপীড়িত শহরগুলোর প্রথমেই রয়েছে নিউইয়ক। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরের হাসপাতালগুলো করোনা রোগীতে সয়লাব। এর মধ্যে অন্যতম হাসপাতাল কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি আরভিং মেডিকেল সেন্টার। চিকিৎসাকালে বহু রোগীর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহণ করেছেন এই মেডিকেল সেন্টারের একটি গবেষক দল। সেই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য বহু দেশ থেকেও করোনার তথ্য সংগ্রহ করেন তারা।

এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, করোনা কার্যত মানব শরীরের প্রায় প্রত্যেকটা অংশই আক্রমণ করে। আক্রমণ করে অকেজো করে দেয় বহু প্রত্যঙ্গ। এমনকি শরীরের ভেতরে বিভিন্ন অংশে রক্ত জমাট বাধায়। হৃদযন্ত্র তার স্পন্দন হারায়, রক্তপাত হয়ে কিডনি বিকল হয়ে যায়, ত্বকের ক্ষতি করে। এছাড়া মাথাব্যথা, ঝিমঝিম ভাব, মাংসপেশীতে ব্যাথা ও পেটের ব্যথা ঘটায়।

গবেষণা দলের অন্যতম ও কলম্বিযা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের সদস্য আকৃতি গুপ্তা বলেন, ‌চিকিৎসকরা এখন করোনাকে মাল্টিসিস্টেম ডিজিজ হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, করোনা রোগীর শরীরে রক্ত জমাট বাধার বহু রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তবে রোগীদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশই কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ব্রেইনের সমস্যায়ও ভুগছেন। এবং ফুসফুস ও শ্বাসনালীর সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের এসব সমস্যার দিকেও নজর দিতে হচ্ছে।  

ব্রিটিশ গবেষকরা বলছেন, করোনার মৃদু লক্ষণেও ব্রেইনের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। যেসব রোগীর মৃদু লক্ষণ থাকে বা যারা সেরে ওঠেন, তাদের ক্ষেত্রেও সমস্যাটি রয়ে যায়৷ সেটি অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে ধরা পড়ে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধরাই পড়ে না৷ এই গবেষণাটি ‘ব্রেইন’ নামের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে৷ ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা এজন্য ব্রিটেনের ৪০ জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর উপর পরীক্ষা চালিয়েছেন৷

গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ জনই কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রদাহে ভুগেছেন৷ ১০ জন মস্তিস্কের ট্রানসিয়েন্ট এনসেফেলোপাথি রোগে, আটজনের স্ট্রোক এবং আরো আটজন পেরিফেরাল স্নায়ু সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন, যা পক্ষাঘাত এবং পাঁচভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ হয়৷

আক্রান্তদের মস্তিস্ক আর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে কোভিড-১৯, যা রোগীদের সাইকোসিস, পক্ষাঘাত এবং স্ট্রোকের কারণ হতে পারে৷ অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো ধরা পড়ে শেষ পর্যায়ে৷ কোভিড ১৯-এর মতো মস্তিস্কে কোনো ভাইরাসের এমন অতর্কিত হামলা বিজ্ঞানীরা এর আগে দেখেননি, বলেছেন গবেষক দলের প্রধান ডা. মাইকেল জান্ডি৷ বিশেষ করে, মৃদু লক্ষণেও রোগীদের মস্তিস্কের এমন মারাত্মক ক্ষতি হওয়া বিরল বলে উল্লেখ করেছেন তিনি৷

কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির ছাপ রেখে যায়৷ অনেকে সেরে ওঠার পরও শ্বাসকষ্ট এবং দীর্ঘ ক্লান্তিতে ভোগেন৷ অসাড়তা, দুর্বলতা আর স্মৃতি সংক্রান্ত জটিলতাও দেখা গেছে বাকিদের ক্ষেত্রে৷ তবে মস্তিস্কের অসুখে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে সে বিষয়ে গবেষকরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি৷

আরও পড়ুন:

সোলেমানির চিন্তাধারা বেশি ভয় পায় যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি চীন: এফবিআই প্রধান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *