বিদ্যুুৎ বিভ্রাটে অন্ধকারে লেবানন

লেবাননে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, অন্ধকারে পুরোদেশ

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

বৈরুত, লেবানন- নজিরবিহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে লেবাননে। দিনের মধ্যে ২২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। শহরের রাস্তায় রাস্তায় আগের মতো জ্বলছে না ট্রাফিক লাইট। রাতের বেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় পুরো লেবানন। ভুতুড়ে শহর হযে ওঠে রাজধানী বৈরুত। দেশটির এই সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অধিকার সংস্থাগুলো।

দুর্নীতি আর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সরকারের চরম ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে দেশটির জনগণ। বিদ্যুতের সঙ্গে মৌলিক অধিকারের দাবিতে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছে তারা।

লেবাননে চরম অর্থনৈতিক সংকট চলছে। রাজনৈতিক নেতাদের কয়েক দশকের দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, অভিজাত ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত, তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সিরিয়ার যুদ্ধ দেশটির অর্থনীতিকে টেনে নামিয়েছে স্মরণকালের সবচেয়ে গভীর সংকটে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে করোনাভাইরাস মহামারী। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট।

খবরে বলা হযেছে, গত কযেক সপ্তাহ ধরে চলছে এই সংকট। বিদ্যুৎ একবার গেলে আর আসতে চায় না। কোনো কোনো দিন ২২ ঘণ্টাই থাকে লোডশেডিং। এর ফলে নাগরিক জীবন থমকে গেছে। হিউমান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, প্রধানত জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে এই লোডশেডিং। জ্বালানির তেলের মতো প্রায় প্রত্যেকটি জিনিসই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানি একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে।

বিদ্যুতের অভাবে লেবাননের হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালসহ প্রধান করোনা চিকিৰসা কেন্দ্রহগুলোতের বেশ কিছু ওয়ার্ড বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আইসিইউগুলো অচল হয়ে গেছে। অফিসের এসিগুলো আর ঠাণ্ডা বাতাস ছড়চ্ছে। এমনকি মোবাইল ফোনেও চার্জ দিতে পারছে না মানুষ। দেশটিতে কম-বেশি গত বছর থেকেই এই বেহাল অবস্থা।

রাজধানীর রাস্তার দুই ধারেই ট্রাফিক লাইটগুলোও কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বলে না। এই পরিস্থিতি অনেককেই তিন দশক আগের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রাজধানীর সব ট্রাফিক লাইট ধ্বংস হয়ে যায়। যুদ্ধ শেষ হওযারও কয়েক বছর পর গত শতাব্দীর ৯০ দশকের শেষের দিকে রাজধানী নতুন করে সাজানো হয়। নাগরিক মনে একটা স্বস্তি ফিরে আসে।

কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে সেই গৃহযুদ্ধে সময়কার পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। প্রতিদিন অন্তত তিন-চার লোকশেডিং। একবার গেলে ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা পর আসে। সরকারি বিদ্যুতের এই অনিয়মিত অবস্থায় সমস্যা সমাধানের ব্যর্থ চেষ্টা করছে জেনারেটর মালিকেরা। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তাও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।  

এমন পরিস্থিতিতে ফের রাস্তায় নেমে এসেছে লেবাননের অধিবাসীরা। সরকারের লাগামহীন দুর্নীতি আর বিদ্যুৎ বিভাগের নজিরবিহীন অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতিকে তাদের অনেকেই ‘বিপর্যয়কর ও অগ্রণযোগ্য’ বলে অভিহিত করছে।

২৬ বছর বয়সী ফাওয়াজ পড়াশুনা শেষ করে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এসেই দেখছেন ভয়াবহ এই পরিস্থিতি। রোববার আলজাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে অন্ধকার রাস্তায় মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় মরতে বসেছিলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‌এটা খুবই ভয়ানক।’ খবর আলজাজিরা ও সিএনবিসির।

আরও পড়ুন:

হাজিয়া সোফিয়াকে মসজিদ করায় ক্ষোভ প্রকাশ পোপের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *