চীনে সিনেমা হল ফের খুলে দেয়ার ঘোষনা

চীনে সিনেমা হল ফের খুলে দেয়ার ঘোষনা

চীন লিড নিউজ

বেইজিং, চীন- চীনে আগামী সপ্তাহ থেকেই দেশটির বেশিরভাগ সিনেমা হল ফের খুলে দেয়া হবে। বৃহস্পতিবারই দেশটির কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হল ফের খুলে দেয়া হবে। তবে দর্শক-শ্রোতাসহ সবাইকে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্বের মতো বিধি মেনে চলতে হবে। খবর এএফপির।

দর্শকদের জন্য খুলে দেয়ার আগে চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লিয়াওনিং প্রদেশের শেনইয়াংয়ে একটি সিনেমা হলের ভেতর জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী। চীনে করোনাভাইরাস সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় কমে গেছে। ফলে আস্তে আস্তে সব কিছুই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত ১০ দিন ধরে সংক্রমণের হার শুন্য।

চীনের চলচ্চিত্র বিষয় কর্তৃপক্ষ চায়না ফিল্ম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলেছে, দেশের ‘কম ঝুকিপূর্ণ’ মুভি থিয়েটারগুলো আগামী ২০ জুলাই থেকেই কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। তবে সিনেমা মালিকদের অবশ্যই কিছু কিছু সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। দর্শকদের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক ও হলের মধ্যে বসার সময় অন্তত এক মিটার পর্যন্ত শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে কোনোভাবেই সিনেমার মোট আসনের বিপরীতে টিকেটের ৩০ শতাংশের বেশি বিক্রি করা যাবে না। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই দ্রুতই সব সিনেমা বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর গত মার্চ মাসেই হলগুলো খুলে দেয়ার ঘোষণা দেয় চীনা সিনেমা কর্তৃপক্ষ।

মার্চেই সিনেমা হল খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছিল চীন। হল বন্ধ ছিল জানুয়ারি থেকেই। কিন্তু মার্চ থেকে হল খোলা যায়নি। কারণ সে সময়ে চীনের বেশ কিছু এলাকা থেকে আবার নতুন করে সংক্রমণের খবর আসতে শুরু করে। প্রায় তিন মাস পর ফের হল খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কারণ হল ইন্ডাস্ট্রি বিপুল ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। চীনের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল চেন ওয়ান্ডা ফিল্ম জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ২১.৪ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে তাদের।

করোনার আঘাতে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি এখন ধুঁকছে৷ কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোদস্তুর সচল হবে তার কোনো ঠিক নেই৷ জিডিপি প্রবৃদ্ধি দূরে থাকুক, দেশগুলো তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতেই হিমশিম খাচ্ছে৷ আর সেখানে ভেলকি দেখালো চীন৷

ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে প্রথম করোনার সংক্রমণ শুরু৷ এরপর হুবেইসহ বিভিন্ন প্রদেশে কড়া লকডাউন আরোপ করে সরকার৷ ব্যবসা-বাণিজ্য, কারখানাসহ বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড৷ এ কারণে জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে জিডিপি ছয় দশমিক আট শতাংশ কমে গিয়েছিল, যা ১৯৬০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন৷

আরও যা পড়তে পারেন:

চীনের ৩১টি প্রদেশের ২৭টিতেই বন্যা, মৃত্যু ১৪০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *