১০০ মাইল যেতে পারে আন্দিয়ান কন্ডর

ডানা না ঝাপটিয়েই ১০০ মাইল উড়তে পারে আন্দিয়ান কন্ডর

অন্যান্য

পাখা না ঝাপটিয়েই প্রায় ১০০ মাইল উড়তে সক্ষম আন্দিয়ান কন্ডর নামের এক প্রজাতির পাখি। পৃথিবীর বৃহত্তম উড়ন্ত এই পাখিটি পাখা ঝাপটানো ছাড়াই কিভাবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাতাসে ভেসে থাকে-নতুন এক গবেষণায় তা উঠে এসেছে।

আন্দিয়ান কন্ডর বা আন্দিজের কন্ডর। একটা শকুন গোত্রীয় পাখি। বৈজ্ঞানিক নাম ভালচার গ্রাইফাস। এরা কার্থাটিডি পরিবারের সদস্য এবং ভালচার গণের একমাত্র সদস্য। আন্দিজ পর্বতমালা এবং এর সংলগ্ন দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিমাংশের প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে এদের দেখা যায়। ওজন এবং পাখার দৈর্ঘ্যে এরাই পৃথিবীর উড়তে সক্ষম পাখিদের মধ্যে সব থেকে বড়। এদের ওজন ১৫ কেজি পর্যন্ত হয। পাখার দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৩.৩ মি (১০ ফু ১০ ইঞ্চি)।

পাখিটির নানা বৈশিষ্ট্য নিয়ে নিবীড়ভাবে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানী। এর ওড়ার বৈশিষ্ট্য জানতে প্রথমবারের মতো সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের পাতাগোনিয়া এলাকায় আটটি পাখি নিয়ে কাজ শুরু করেন ব্রিটেনের সোয়ানসি ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী। গবেষণায় পাখির ওড়ার সক্ষমতার দিকটাতেই আলোকপাত করা হয়েছে।

পাখিগুলোর পাখা ঝাপটানোর হার রেকর্ডের জন্য এদের পিঠে রেকর্ডিং যন্ত্র বেধে ছেড়ে দেয়া হয়। উড়ন্ত অবস্থায় এদের কর্মকাণ্ডের ২৫০ ঘণ্টার বেশি রেকর্ড করা হয়। পাখিগুলোর এই  রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা যায়, পুরো উড্ডয়নকালের মাত্র ১ শতাংশ সময় এরা তাদের পাখা ঝাপাটানোর জন্য ব্যয় করেছে।

মাটি থেকে উড্ডয়নের পর একটা পাখি সচরাচর পাঁচ ঘণ্টার বেশি আকাশে থাকে। এ সময় এরা অন্তত ১০০ মাইল(১৬০) দুরত্ব অতিক্রম করে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে একবারও ডানা ঝাপটায় না।

পাখিটির এই বৈশিষ্ট সম্পর্কে বিজ্ঞানী দলের অন্যতম সদস্য ও সোয়ানসি ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী অধ্যাপক এমিলি শেফার্ড বলেন, আমরা জানতাম, ওড়ার ক্ষেত্রে কন্ডর পাখিরা দক্ষ পাইলটদের মতো। কিন্তু তারা যে এতটাই দক্ষ, তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল।‘ 

নতুন এই গবেষণার ফলাফল সোমবার ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সাইন্সেসের জার্নাল প্রসিডিংস-এ প্রকাশিত হয়েছে। আন্দিয়ান কন্ডরের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নতুন এই তথ্যের ব্যাপারে স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির পাখি বিশেষজ্ঞ ডেভিড লেনটিংক বলেন, ফলাফলে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওড়ার সময় এই পাখিগুলো প্রায় একেবারেই ডানা ঝাপটায় না। তাদের এই কৌশল সত্যিই অসাধারণ।  

আন্দিয়ান কন্ডর দক্ষিণ আমেরিকার সান্তা মার্তা পর্বতসহ আন্দিজ পর্বতমালায় বাস করে। উত্তরে এদের বিস্তার শুরু হয়েছে ভেনেজুয়েলা এবং কলম্বিয়ায় যেখানে এরা এখন খুবই বিরল প্রজাতির পাখি, এরপর আন্দিজ পর্বত ধরে দক্ষিণে গেলে ইকুয়েডর, পেরু এবং চিলি, বলিভিয়ার মধ্য দিয়ে এবং আর্জেন্টিনার পশ্চিমাংশ থেকে তিয়েরা দেল ফুয়েগো পর্যন্ত এদের দেখতে পাওয়া যায়।

১৯ শতকের প্রথম দিকে ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাংশ থেকে তিয়েরা দেল ফুয়েগো পর্যন্ত পুরো আন্দিজ অঞ্চল জুড়ে কন্ডোরের বাস ছিলো কিন্তু মানুষের কারণে এদের সংখ্যা ব্যাপক হারে হ্রাস পাচ্ছে। এদের বসবাসের জায়গা হচ্ছে উন্মুক্ত ঘাসের জমি এবং আলপাইন এলাকা। এরা খোলা, জংগলহীন এলাকা পছন্দ করে যেখানে আকাশ থেকে ভূমি স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।

সংস্কৃতিতে আন্দিয়ান কন্ডর

আর্জেন্টিনা, বলিভিয়াম চিলি, কলাম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু এবং ভেনেজুয়েলার আন্দিজ রাজ্যের জাতীয় প্রতীক হচ্ছে আন্দিজের কন্ডর। এটা বলিভিয়া, চিলি, কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের জাতীয় পাখি। দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ সংলগ্ন অঞ্চলের লোকসাহিত্য ও পূরাণ কাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে আন্দিজের শকুন। খিস্ট্র পূর্ব ২৫০০ সাল থেকে আন্দিয়ান চিত্রশিল্পে কন্ডর পাখির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

আন্দিয়ান পুরাণে আন্দিয়ান কন্ডরকে সূর্য দেবতার সহযোগী ভাবা হয় এবং বিশ্বাস করা হয় এরা উর্ধ্ব জগৎ শাসন করে। আন্দিয়ান সাহিত্যে একে ক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের প্রতীক বিবেচনা করা হয়। বিশ্বাস করা হয় আন্দিয়ানকন্ডরের হাড় এবং অংগ প্রত্যংগের ঔষধি ক্ষমতা আছে তাই এদেরকে হত্যা করা হয়। পেরুর কোন কোন এলাকায় ষাঁড়ের লড়াইয়ে ষাঁড়ের পিঠে কন্ডোর পাখি বেধে দেয়া হয়। সাধারনত কন্ডর পাখি বেঁচে যায় এবং একে ছেড়ে দেয়া হয়। ‌     

আরও পড়ুন:

ইসলাম গ্রহণ করলেন তিন জনপ্রিয় মডেল

‌     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *