সীমান্তে পাক সেনাদের গোলায় তিন ভারতীয় নিহত

Uncategorized

সীমান্তে পাক সেনাদের গোলাবর্ষণে তিন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছে। বারবার ভারতীয় সেনার কাছ থেকে যোগ্য জবাব পাওয়ার পরেও শোধরানোর দেশ নয় পাকিস্তান। শুক্রবার রাতে পাক সেনারা জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলি চালানোর ফলে উপত্যকায় তিন জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছ।

রাত ৯ টার দিকে পাকিস্তান পুঞ্চ জেলার গুলপুর সেক্টরের খড়ি-করমারা গ্রামে ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোয় এবং মর্টার দিয়ে গোলাবর্ষণ করে অঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন শুরু করে। পাক সেনারা এবার ভারতীয় সেনাদের ছেড়ে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষদের লক্ষ করে গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। লক্ষ্যবস্তু হিসাবে বেছে নিচ্ছে সীমান্তের কাছের গ্রামগুলিকে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ চলাকালীন একটি গোলাটি করমারা গ্রামের এক নাগরিক মোহাম্মদ রফিকের বাড়ির উপর পড়ে। যে বাড়ির মধ্যে ছিলেন রফিক (৫৮), তার স্ত্রী রাফিয়া বিআই (৫০) এবং ছেলে ইরফান (১৫)। ঘটনাস্থলেই মারা যায় তিনজন। পাক সেনার ভারী গোলাবর্ষণের কারণে পরিবারের আরও এক সদস্য আহত হয়েছে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী পাক সেনাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গুলি চালানোর পাল্টা জবাব দেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন পাকিস্তান ভারী শেলিং করেছিল করমারা গ্রামে। ১২০ মিমির একটি মর্টার শেলিংয় গ্রামের আবাসিক বাড়িতে আঘাত হেনেছিল। পুঞ্চের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাহুল যাদব নিশ্চিত করেছেন যে, পাক সেনার শেলিংয়ে তিনজন নিহত হয়েছে এবং আরও একজন আহত হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন “এই ঘটনায় তাঁদের ছোট ছেলে ইরফান আহমদেরও মৃত্যু হয়েছে।”

প্রসঙ্গত, শনিবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে ছয় জন সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করেছে। যাদের মধ্যে একজন জইশ কম্যান্ডার ছিল। সীমান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা পাকিস্তানের কাছে যেন এক অঘোষিত অধিকারের মতো হয়ে গিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই সীমান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে পাকিস্তান।

সেই সঙ্গে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ১,৪০০ বারের বেশি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ২০১৯ সালে ৩,১৬৮ বার ও ২০১৮ সালে ১,৬২৯ বার যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছিল।

আরও পড়ুন:

ভারতে দলিত দম্পতিকে নির্মম নির্যাতন পুলিশের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *