সেপ্টেম্বরে মিলতে পারে অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন

সেপ্টেম্বরে মিলতে পারে অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন

ইউরোপ

সেপ্টেম্বরে মিলতে পারে অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন! বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের জন্য অন্তত ১৫৫টি করোনার প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণা চলছে। এর মধ্যে ২৩টি কার্যকর ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল চলছে। এই ২৩টি কার্যকর ভ্যাকসিনের মধ্যে তিনটির চূড়ান্ত পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল চলছে। এর মধ্যে অন্যতম হল অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিগগিরই শেষ হবে এই ট্রায়াল। ব্রিটেন, আমেরিকা ও ব্রাজিল মিলিয়ে ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর ভ্যাকসিনটির শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। তবে কবে পাওয়া যাবে বহুল কাঙ্খিত এই করোনা ভ্যাকসিন সেই প্রশ্নের উত্তর এবার মিলল।

লন্ডনের বার্কশায়ার রিসার্চ এথিক্স কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিড কার্পেন্টার জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা। আগামী সেপ্টেম্বরে মিলতে পারে অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন । অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দেওয়া বা এর পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে এই বার্কশায়ার রিসার্চ এথিক্স কমিটির ওপরেই।

ডেভিড কার্পেন্টার বলেন, নির্দিষ্ট ভাবে কোনও তারিখ বলা হয় তো কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে মোটামুটি সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকেই মিলতে পারে অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন। শুরু থেকেই যাতে যথেষ্ট পরিমাণে টিকার যোগান দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো।

অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের তৈরি প্রতিষেধকটির তৃতীয় তথা শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। করোনার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম তাদের তৈরি টিকা, এমনটাই দাবি করেছেন অক্সফোর্ডের প্রতিষেধক গবেষণার প্রধান ড. সারাহ গিলবার্ট। গিলবার্ট জানান, করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সফল হয়েছে এই টিকা। একাধিক পরীক্ষায় তার প্রমাণও মিলেছে।

টিকা কীভাবে কাজ করে

ChAdOx1 nCoV-19 নামের এই টিকাটি তৈরি করতে অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে কাজ চলছে।শিম্পাঞ্জির শরীরের সাধারণ সর্দিকাশি তৈরি করে, এমন একটি ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন করে এই টিকাটি তৈরি করা হচ্ছে। এটাকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে এটা মানব শরীরে সংক্রমণ তৈরি না করে। এটাকে করোনাভাইরাসের কাছাকাছি একটা সাদৃশ্যও দেয়া হয়েছে।

যে টিকাটি তৈরি করা হচ্ছে, তার ভেতরে করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের জিনগত বৈশিষ্ট্য ঢুকিয়ে (যে অংশটি আমাদের কোষকে আক্রমণ করে) দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এর মানে হল, টিকাটি করোনাভাইরাসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং তখন শরীরের ভেতর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বুঝতে পারে যে, কীভাবে করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে পরাস্ত করা যাবে।

আরও পড়ুন-

নাগরিকত্ব লড়াইয়ে ব্রিটেনে ফিরতে পারবেন আইএসবধূ শামীমা

এবার লন্ডনে কৃষ্ণাঙ্গের গলায় হাঁটু তুলে পুলিশ সাসপেন্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *