পবিত্র ঈদুল আজহা পহেলা আগস্ট

বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পহেলা আগস্ট

বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা- বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে ১ আগস্ট। আজ চাঁদ দেখা না যাওয়ায় জিলহজ মাস শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার। মঙ্গলবার চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে বলা হয়, মঙ্গলবার বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সে অনুযায়ী ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হচ্ছে জিলহজ মাস। আর ১ আগস্ট (শনিবার) উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলিম সম্প্রদায় তাদের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসবে পশু কোরবানি দেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সোমবার জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সেখানে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে ৩১ জুলাই। আর তার আগের দিন হবে পবিত্র হজ।

হিজরি বর্ষপঞ্জির ১২তম ও শেষ মাস জিলহজ। ১০ জিলহজ আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশায় পশু কোরবানি করেন মুসলমানরা। ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ হিসেবে পরিচিত এই উৎসবের মূল আহ্বান ত্যাগের।

প্রতিবছর এই মাসে সৌদি আরবের পবিত্র দুই নগরী মক্কা ও মদিনায় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পবিত্র হজ পালন করে থাকেন বিশ্বের লাখ লাখ ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

সমগ্র বিশ্ব যখন মহামারি করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এ পরিস্থিতিতে কুরবানি দেয়া বৈধ কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

ইসলামে কুরবানির গুরুত্ব অতি ব্যাপক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোনো মহামারির সময় একজন মুমিন তার ইবাদতে দুর্বলতা দেখায় না বরং আরও গতির সঙ্গে ইবাদতে রত হয়। তাই বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পশু কুরবানি থেকে বিরত থাকার কোনো বিধান ইসলামে নেই।

করোনার অজুহাতে কুরবানির বিধান কোনো অবস্থাতেই শিথিল হতে পারে না। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের অবশ্যই কুরবানি আদায় করতে হবে।

কেবল গোশত খাওয়াই এ কুরবানির উদ্দেশ্য নয় বরং কুরবানির পশুর মত নিজেদের পশুত্বকে বলি দেয়ার শিক্ষাও আমরা এ থেকেই পেয়ে থাকি। আল্লাহ পাক বলেছেন- ‘এগুলোর (কুরবানির পশুর) গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৭)

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সুন্নত অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে কুরবানি পালনের মাধ্যমে প্রতি বছর একজন মুসলমান নিজের মাঝে তাকওয়াকে আরও একবার ঝালিয়ে নেন, যেন প্রয়োজনের দিনে আল্লাহর পথে কুরবানির পশুর ন্যয় নিজেকে সমর্পণ করতে পারেন।

হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের কুরবানির অনুসরণে মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর ১০ই জিলহজ তারিখে পশু কুরবানি করে থাকে। ইসলামে এই যে কুরবানির শিক্ষা তা কি কেবল একটি পশু কুরবানির মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়ে যায়?

আসলে পশু কুরবানি করাটা হচ্ছে একটা প্রতীকীমাত্র। আল্লাহ তাআলা চান মানুষ যেন তার পশুসূলভ হৃদয়কে কুরবানি করে, তার আমিত্বকে কুরবানি করে আর সেই সঙ্গে তার নিজের সমস্ত চাওয়া-পাওয়াকে আল্লাহর খাতিরে কুরবানি করে দেয়।

আরও পড়তে পারেন:

[সমালোচনার মুখে পদত্যাগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির]

[সাহাবউদ্দিন মেডিকেলের এমডি ফয়সাল গ্রেফতার]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *