লেজার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র উদ্বোধন ইরানের

লেজার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র উদ্বোধন ইরানের

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

তেহরান, ইরান- নতুন ধরণের লেজার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র উদ্বোধন করল ইরান। সোমবার রাজধানী তেহরানে এটি উদ্বোধন করেন আরজিসির প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি। এদিন সকালে জেনারেল সালামি আইআরজিসি’র হেলিকপ্টার পরিচালনা বিষয়ক ঘাঁটি ‘ফাতহ’ পরিদর্শনে যান। সেখানে বিভিন্ন সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি লেজার গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর জানিয়েছে।

আইআরজিসি’র প্রধান বলেন, আইআরজিসি’র পদাতিক ইউনিটের অধীনে পরিচালিত হেলিকপ্টার বিভাগ নানা ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষকরে তারা এখন হেলিকপ্টারে যন্ত্রাংশ তৈরি এবং হেলিকপ্টার আধুনিকায়নে স্বনির্ভর। হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশ ও হেলিকপ্টার আধুনিকায়নের সব কিছুই ইরানি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

লেজার গাইডেড মিসাইল কিভাবে এটি কাজ করে

গাইডেড মিসাইল এর বেশ কয়েকটি আলাদা আলাদা অংশ রয়েছে।  সেগুলো হল ফুয়েল, ওয়ারহেড, গাইডেন্স। এই সব মিসাইলে মুলত সলিড ফুয়েল ব্যাবহার করা হয়। এটা বেশি শক্তি উৎপন্ন করে আর দহন হয় বেশি সময় ধরে ফলে এর গতি বারে আর বেশি পথ অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া এটি জেট ইঙ্গিন ও ব্যাবহার করে। তবে সব মিসাইল না, বিশেষ করে ব্যালাস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইলে এধরনের ইঙ্গিন ব্যাবহার করা হয়। যেমন টমাহক ক্রুজ মিসাইল।

মিসাইল বিভিন্নভাবে গাইড করে টার্গেট করা যায়। প্রথমে শত্রু পক্ষের রেডিও বা রাডার থেকে আসা সিগ্নাল লক করে সেই অনুযায়ী মিসাইল টার্গেট করা যায়। দ্বিতীয়ত, শত্রু পক্ষের কোন যানবাহন, এর রাডার এ লেসার ডেসিগ্নেটর দিয়ে লক করে সেই অনুযায়ী মিসাইল টার্গেট করা। এক্ষেত্রে শুধু টার্গেট লক করে মিসাইল উৎক্ষেপণ করলেই হবে তাকে আর গাইডেন্স করে টার্গেট এ পৌছে দিতে হবেনা, সে নিজেই টার্গেট এ পৌছে যাবে। প্রথম এবং দ্বিতীয় এই দু ভাবে মিসাইল কে এভাবে টার্গেট এ ফায়ার করা যায়।

তৃতীয়ত, হিট সিগ্নেচার বা ইনফ্রারেড ক্যামেরা দিয়ে টার্গেট এর উপর দৃষ্টি রেখে মিসাইল চালনা করা। এর মাধ্যমে নিজে চোখে দেখে টার্গেট এ আঘাত করা যায়। এর জন্যে একজন অপারেটর কে কন্ট্রোল রুমে বসে মিসাইলে এর গতিপথ নিয়ন্ত্রন করা হয়, ঠিক একটি ড্রোন বিমান চালনা করার মত, তবে এর জন্যে প্রচুর দক্ষতার প্রয়োজন আছে।

চতূর্থত হল, জিপিএস নেভিগেশন এর মাধ্যমে। যদি কোন স্থানের সঠিক ঠিকানা জানা থাকে তবে এর মাধ্যমে মিসাইল টার্গেট এ আঘাত হানতে পারে। স্যাটেলাইট এর মাধ্যমে এর টার্গেট আগে থেকে নির্ধারিত থাকে, ফলে সেই অনুযায়ী মিসাইল টার্গেট এ আঘাত হানে, যেমন ব্যালাস্টিক মিসাইল (পরমানু বোমা সমৃদ্ধ)।

আরও পড়ুন:

সোলেমানি হত্যার সহযোগী ইরানি গুপ্তচরের ফাঁসি কার্যকর

নেতানিয়াহুর ঘুষ-দুর্নীতির বিচার শুরু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *