উর্বরতা বাড়াতে মাটির নিচে অন্তর্বাস

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

আর্মিডেল, অস্ট্রেলিয়া- এটা একটি আন্দোলন। উদ্দেশ্য, পৃথিবী ও এর মাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কেননা আমাদের পায়ের তলার মাটিতেই নির্ভর করছে বিশ্বের স্বাস্থ্য। তাই এ স্বাস্থ্য উন্নয়নে নতুন এক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কৃষকরা, সঙ্গে আছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। এক অর্থে, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনেরই একটা অংশ ‘মাটির নিচে অন্তর্বাস’ কর্মসূচি। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এর বৃত্তান্ত।

শুরু হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ‘সয়েল ইওর আন্ডিজ চ্যালেঞ্জ’। একটি নাগরিক বিজ্ঞান প্রকল্পÑযার আওতায় কৃষক থেকে স্কুল শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত কয়েকশ’ লোক তাদের তুলায় তৈরি অন্তর্বাস তাদের নিকটস্থ বাগানে সমাধিস্থ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতা এখন শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়াতেও।

তুলার তৈরি আন্ডারওয়্যার বা অন্তর্বাস মাটির তলায় পুঁতে রাখলে কী হয়? তার ব্যাখ্যা অত্যন্ত চমকপ্রদ! তুলা সেলুলোজ নামক এক প্রকার চিনি দিয়ে তৈরিÑযা মাটিতে মিশে ক্ষতিকারক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবাণুদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। সেলুলোজের কাছে পরাজিত হয়ে সেই ক্ষুদ্র জীবাণুগুলো মাটির খাদ্যে রূপান্তরিত হয়।

মাটির তলা থেকে পরবর্তী সময়ে পুঁতে রাখা এই কাপড়গুলো তুলে আনার পর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করা যায়। যদি কাপড়ের খুব বেশি অংশ না থাকে তবে মাটি এরই মধ্যে স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিসমৃদ্ধ হয়েছে বলে বুঝতে হবে। আর যদি এটি বেশিরভাগ অক্ষত থাকে, তবে এ মাটির উন্নতি করার জন্য আরও কাজ করা প্রয়োজন হবে।

নিউ সাউথ ওয়েলসের নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যায়ের স্কুল অব এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড রুর‌্যাল সায়েন্সের সিনিয়র প্রভাষক অলিভার নক্স জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে শুরু হয়েছিল এমন একটি প্রকল্প। ৫০ কৃষককে তারা জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তারা বিজ্ঞানের জন্য তাদের অন্তর্বাসগুলো কবর দিতে ইচ্ছুক কি না?
তারা কেবল এটিই করেননি, বরং তারা একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিলেনÑকে বেশি অন্তর্বাস মাটিতে পুঁততে পারেন।

এর পর থেকে মহাদেশজুড়ে কৃষকরা তাদের আন্ডারগার্টমেন্টগুলো সমাহিত করেছেন। বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মাটির স্বাস্থ্য অনুসন্ধান করার পাশাপাশি অন্যান্য গবেষণার জন্য ডেটা সংগ্রহ করার অনুমতি দিয়েছেন।

প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ডে, ওটাগোর স্কুলগুলোও নিজস্ব মাটি উন্নয়নের জন্য প্রচারণা চালাতে শুরু করেছে। স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থী এবং তাদের শিক্ষকরা তাদের পায়ের তলার বিশ্ব সম্পর্কে জানতে পেরে ভীষণ উচ্ছ¡সিত।

প্রভাষক নক্স বলেন, ‘তবে, এই গ্রহের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের মতো তারাও মাটি সম্পর্কে খুব কমই জানেন। মাটি কীভাবে কার্যকরী হয় এবং এটি আমাদের সুস্থতার জন্য এবং আমাদের গ্রহের সব জীবনযাত্রার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে সত্যিকার অর্থে খুব বেশি চিন্তা-ভাবনা করেনি কেউই।’

অস্ট্রেলিয়ার ‘সয়েল ইওর আন্ডিজ’ কর্মসূচি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ছয়টি স্কুল নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প হিসাবে যাত্রা শুরু করেছিল। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে আরও ছয়টি প্রকল্প এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন নক্স। এ প্রকল্পের আওতায় কাজ করা বাচ্চারা জানিয়েছে, তারা যে অন্তর্বাসগুলো পুঁতে রেখেছিল সেগুলোর অধিকাংশই ক্ষয়ে দিয়েছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট গবেষকরা এ প্রকল্পের সাফল্যের ব্যাপারে কিছুটা হলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন, যদি খাঁটি তুলায় তৈরি না হয় পুঁতে রাখা অন্তর্বাসগুলো? তবে পলিয়েস্টার থাকলেও অন্তত শতকরা ৬৫ ভাগ তুলা থাকলেও এটি দারুণভাবে কাজ করবে বলে তাদের বিশ্বাস। তারা বিশ্বাস করেন, ঠিকমতো পরিচালিত হলে নিঃসন্দেহে বিশ্ব কৃষি ব্যবস্থায় এটি একটি নতুন সংযোজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *