মিয়ানমারে সেনার বিরুদ্ধে লড়তে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে জনগণ

পূর্ব এশিয়া লিড নিউজ

নেপিদো, মিয়ানমার- কয়েক ডজন সশস্ত্র যুবক। হামাগুড়ি দিচ্ছে কাদামাটিযুক্ত পথের ওপর। যতটা সম্ভব কোনো শব্দ না করে একটি টার্গেটকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। এরপর কমান্ডারের নির্দেশে রাইফেল নিয়ে এক এক করে গুলি ছুড়ছে।

মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী গহীন বনের মধ্যে একটি ছোট্ট গ্রামে চলছে সামরিক প্রশিক্ষণ। মূলত জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অস্ত্র চালানোর মৌলিক কিছু কৌশল শেখানো হচ্ছে। অংশ নিয়েছে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।

দীর্ঘ ছয় দশকের সামরিক শাসনের পর সবে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছিল মিয়ানমার। কিন্তু বেশি দুর যেতে পারল না। চলতি বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা জবরদখল করেছে দেশটির সেনাবাহিনী, তাতমাদো।

শুধু তাই নয়, ক্ষমতা কুক্ষিগত ও প্রলম্বিত করতে গণতন্ত্রপন্থী সাধারণ জনতার ওপর কঠোর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন গুলি চালিয়ে মানুষ মারছে। রাতের আধারে গুম-খুন করছে।নিজ নাগরিকদেরই রাস্তায় হত্যা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে মর্টার আর রকেট প্রপেল্ড গ্রেনেড।

মিয়ানমারের আপামর মানুষের জীবনের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠেছে সেনাবাহিনী। কিন্তু এই হুমকি মেনে নিতে রাজি নয় জনগণ। মোকাবিলায় তাই নিজেরাই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে তারা। জান্তাবিরোধী ছায়া সরকারের অধীনে গড়ে তুলেছে একটি সশস্ত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী। ৭০ বছর পর প্রথমবারের মতো বর্মি জনগোষ্ঠী আর আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো একাট্টা হয়েছে। রয়টার্স।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে দ্রুতই সশস্ত্র বিদ্রোহের দিকে এগোচ্ছে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। বিভিন্ন জাতিগত বিদ্রোহী গ্রুপের সহযোগিতায় জান্তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে বদ্ধপরিকর তরুণ-যুবারা। কারেন, বাগো, মিন্দাত-সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণ অব্যাহত রেখেছে তারা।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়াদের অনেকেই ‘সিভিল ডিজঅবিডিয়েন্স মুভমেন্ট তথা চলমান অসহযোগ আন্দোলনের সদস্য। গত তিন মাসে জঙ্গলে পালিয়ে এসেছে কয়েক হাজার চিকিৎসাকর্মী, শিক্ষক, প্রকৌশলী এমনকি কারখানা শ্রমিক। তারাই এখন জান্তার বিরুদ্ধে গুলি চালানোর মৌলিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

এর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন মোন মোন জানিয়েছেন, ইউনাইটেড ডিফেন্স ফোর্স নামের এই বাহিনীটি বানানোই হয়েছে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের নিয়ে, দমনপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে যারা পালিয়ে এসেৃছন। ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক।

বেসিক ট্রেনিং প্রোগ্রাম

আর অভ্যুত্থানবিরোধীদের জন্য বেসিক ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করেছেন কারেন ন্যাশনাল ডিফেন্স অরগানাইজেশন-কেএনডিও’র চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল নেরডাহ বো ম্যা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘জীবনকে রক্ষা করা দায়িত্বের আওতায় পড়ে। যেভাবে সেনারা বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে, প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও বিকল্প অবশিষ্ট নেই।’

মোন মোন জানান, যে তরুণরা সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তাদের অনেকেই অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের সামনের সারিতে ছিলেন; গুলতি, এয়ারগান আর হাতে বানানো ঢাল নিয়ে লড়েছিলেন যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত সেনাদের বিরুদ্ধে।

অবশ্য তাদের দেওয়া ভিডিওতে ব্যায়াম ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দৃশ্য থাকলেও অস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণের কিছু দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ভিডিওতে যুদ্ধের পোশাক পরা একজনকে তরুণদের ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ দিতে দেখা গেছে। এ সময় অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থীর পরনেই ছিল কালো পোশাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *