নির্বাচনে হেরে সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীনদের তালা

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

আপিয়া, সামোয়া-নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয় পেয়েছে বিরোধীরা। বিধি মোতাবেক তারাই সরকার গঠন করবে। কিন্তু পরাজয় মেনে ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ ক্ষমতাসীনরা। শুধু তাই নয়, বিরোধীরা যাতে সরকার গঠন করতে না পারে সেজন্য সংসদ ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। অবশেষে পার্লামেন্টের বাইরে তাঁবু টাঙিয়ে সেখানেই শপথ নিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন এ ঘটনা ঘটেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ছোট্ট দ্বীপ দেশ সামোয়ায়।

এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনের পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক সংকট চলছে মাত্র দুই লাখ ২০ হাজার জনসংখ্যার দেশ সামোয়ায়। সোমবার নাটকীয়ভাবে সেই সংকট আরও গভীর রূপ নিয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হন বিরোধী দল ফাস্ট পার্টির নেত্রী ৬৪ বছরের নাওমি মাতা’আফা। কিন্তু হেরে গিয়েও ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকার করে আসছে ক্ষমতাসীন দল এইচআরপিপি ও প্রধানমন্ত্রী তুলিয়েপ্পা সাইলেলে মালিয়েলেগায়োই।

এ নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হলে সুপ্রিমকোর্টও বিরোধীদের পক্ষেই রায় দেয়। অবশেষে সোমবার নতুন সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের লক্ষ্যে কয়েকজন বিচারপতি ও নির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানী আপিয়ায় সংসদ ভবনে উপস্থিত হন মাতা’আফা। কিন্তু তার আগেই ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তাদেরকে সংসদ ভবনে প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশও। পার্লামেন্টের করণিক জানিয়ে দেয়, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী মালিয়েলেগায়োইয়ের আদেশেই তিনি কাউকে সংসদে বসার সুযোগ করে দিতে পারেন। মালিয়েলেগায়োই গত ২২ বছর ধরে সামোয়া শাসন করছেন। তার সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে গত মাসে নির্বাচনের আয়োজন করে।

আলজাজিরা জানায়, পার্লামেন্টে প্রবেশে বাধা পেয়ে পার্লামেন্টের বাইরেই একটি বাগানে তাঁবু টাঙিয়ে অস্থায়ী শপথ মঞ্চ প্রস্তুত মাতা’আফা ও তার দলের এমপিরা। এরপর সেই অস্থায়ী মঞ্চেই একে একে শপথ নেন তারা। আর এই দৃশ্য তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে পার্লামেন্টের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি, রাষ্ট্রপতি এবং ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই সম্পন্ন হয় শপথানুষ্ঠানটি।

শপথের পর মাতা’আফাকে সামোয়ার প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পোস্ট দেওয়া হয়। এক বিবৃতিতে মাতা’আফার দল ফাস্ট পার্টি বলেছে, ‘গণতন্ত্রকে সব সময় রক্ষা করতে হবে। এই মৌলিক নীতির কোনো ছাড় নেই। যারা অন্য কিছু দাবি করছেন তারা আগুন নিয়ে খেলছেন।’ তবে ক্ষমতাসীনরা এই শপথ গ্রহণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, ‘এটি অনানুষ্ঠানিক।’ মালেইলেগায়োই এই অনুষ্ঠানকে ‘অবৈধ ও বেআইনি’বলে অভিহিত করেছেন।

১৯৬২ সালে ব্রিটেন ও নিউজিল্যান্ডের কাছ স্বাধীন হয় সামোয়া। ১৯৯৭ সালের আগ পর্যন্ত ওয়েস্টার্ন সামোয়া হিসাবে পরিচিত ছিল দেশটি। গত চার দশক ধরে নির্বাচনে জিতে আসছে মূলত একটি রাজনৈতিক দল ‘হিউম্যান রাইটস প্রটেকশন পার্টি’ (এইচআরপিপি)। তাই এবার নতুন প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে গণতন্ত্রের নতুন যুগের শুরু হিসাবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচনটি ছিল সামোয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হিউম্যান রাইটস প্রোটেকশন পার্টিকে (এইচআরপিপি) চ্যালেঞ্জ জানায় ২০২০ সালে গঠিত মাতা’আফার দল ফাতুয়াতু ইল আতুয়া সামোয়া উয়া তাসি বা ফাস্ট পার্টি। কিন্তু নির্বাচনের ফল নিয়ে বিরোধ ও আইনি লড়াই হয়। নির্বাচনে উভয় দলই ২৫টি করে আসনে জয়ী হয়।

একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাস্ট পার্টিকে সমর্থন জানান। তবে ক্ষমতাসীনদের দাবির মুখে এপ্রিলের ভোটের ফল বাতিল করে ২১ মে নতুন নির্বাচন আয়োজন করে কমিশন। কিন্তু পুনরায় নির্বাচনের মাত্র পাঁচদিন আগে দেশটির সুপ্রিমকোর্ট ক্ষমতাসীন ইউএইচপিপির বিরুদ্ধে রায় দেয়। এতে এপ্রিলের নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দিয়ে মাতা’আফাকে সরকার গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *