পুলিৎজার পেল ফ্লয়েড হত্যার ভিডিওধারণকারী কিশোরী

আমেরিকা লিড নিউজ

সাংবাদিকতার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পুলিৎজার পেল কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের ভিডিওধারণকারী কিশোরী। শুক্রবার ডারনেলা ফ্রেজিয়ার নামের ওই কিশোরীকে বিশেষ সম্মাননা দেয় পুলিৎজার পুরস্কার বোর্ড। যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর পুলিশের হাতে ফ্লয়েডকে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ধারণ করেছিল ১৭ বছর বয়সী কিশোরী ডারনেলা ফ্রেজিয়ার। এই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে পুলিৎজারে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস ও আলজাজিরার।

সাংবাদিকতার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পুলিৎজার। শুক্রবার ঘোষণা করা হয়েছে ২০২১-এ পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা। এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস, এপি, দ্য মিনিয়াপোলিস স্টার ট্রিবিউনের মতো গণমাধ্যমগুলো।

গত বছরের ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে জর্জ ফ্লয়েডকে হাঁটু তার ঘাড় চেপে ধরেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিন। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে মারা যান ফ্লয়েড। এই ঘটনার সংবাদ সবার আগে প্রকাশ করায় দ্য মিনিয়াপোলিস স্টার ট্রিবিউনকে ব্রেকিং নিউজ ক্যাটাগরিতে পুলিৎজার পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজ ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার ভাগাভাগি করেছেন মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির ১০ জন ফটোগ্রাফার। ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন পুলিশ বাহিনীর নানা বর্ণবাদী আচরণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে। এ নিয়ে নিয়ে যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পুলিৎজার পেয়েছে দ্য মার্শাল প্রজেক্ট, আল ডটকম, ইনডিস্টার ও ইনভিজিবল ইনস্টিটিউট।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের বর্ণবৈষম্য নিয়ে বিশ্লেষণী সংবাদ প্রকাশের জন্য সম্মানিত করা হয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে। এছাড়া করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে দূরদর্শী সংবাদ প্রকাশের জন্য জনসেবা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য আটলান্টিক।

চীনের সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ক্যাটাগরিতে প্রথমবারের মতো পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে বাজফিড। ১৯১৭ সাল থেকে দেয়া হচ্ছে পুলিৎজার পুরস্কার । সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত, নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড প্রতিবছর পুরস্কার ঘোষণা করে।

এ বছর ফিকশন ক্যাটাগরিতে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন লুইস এড্রিচ। ১৯৫০-এর দশকে বাস্তুচ্যুত আদিবাসীদের নিয়ে লেখা ‘দ্য নাইট ওয়াচম্যান’ উপন্যাসের জন্য এ পুরস্কার জিতেছেন তিনি। এছাড়া ম্যালকম এক্সের জীবনীনির্ভর বই ‘দ্য ডেড আর অ্যারাইজিং’-এর জন্য পুরস্কার পেয়েছেন প্রয়াত লেস পেইন ও তামারা পেইন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *