টিকা নিলেই মুরগি উপহার ইন্দোনেশিয়ায়

এশিয়া প্যাসিফিক লিড নিউজ

জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া- ইন্দোনেশিয়ায় মানুষকে টিকা নিলেই মুরগি উপহার দিচ্ছে সরকার। দেশটির ওয়েস্ট জাভা প্রদেশে করোনা প্রতিরোধে টিকা নিতে আগ্রাহী না হওয়ায় ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের পর ইতোমধ্যেই টিকা গ্রহণের জন্য নাম নিবন্ধনও করতে শুরু করেছেন বাসিন্দারা।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ইন্দোনেশিয়াও করোনার থাবায় বিপর্যস্ত। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৫৩ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আক্রান্ত সংখ্যা ১৯ লাখ ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটির বেশ কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহ নেই। তবে টিকার এক ডোজ নিলেই পাচ্ছেন একটি করে মুরগি।

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে টিকা নেওয়ার বিকল্প নেই- এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এরপরও অনেকের মধ্যে করোনার টিকা নিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে দেশে দেশে। সরকারের পক্ষ থেকে নানামুখী প্রচারণার পরও টিকা নিতে চান না অনেকেই। তাই টিকা নিতে না চাওয়া বয়স্ক মানুষকে আগ্রহ তৈরির জন্য উপহারের ঘোষণা দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, টিকা নিতে এলে বয়স্ক মানুষেরা প্রত্যেকে উপহার হিসেবে পাবেন মুরগি।

সিএনএন গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, অবাক করা এ উপহার দিচ্ছে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার কিয়ানজুর রিজেন্সির পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। ওই এলাকায় ৪৫ বছর ও তার বেশি বয়সীদের করোনার টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। তবে স্থানীয়দের  মধ্যে টিকা নেওয়ার মানসিকতা বেশ কম। বুঝিয়ে, প্রচার–প্রচারণা চালিয়েও অনেককে টিকাকেন্দ্রে আনা যায় না।

স্থানীয় পিকাট সাব–ডিস্ট্রিক্টের সহকারী পুলিশ কমিশনার গালিহ আপরিয়াহ বলেন, করোনার টিকা নিয়ে সেখানকার বয়স্ক মানুষের অনেক দ্বিধা রয়েছে। এর অন্যতম কারণ টিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য ও গুজব। বয়স্কদের অনেকের ধারণা, টিকা নিলে করোনা থেকে সুরক্ষা মিলবে না। বরং তা অন্যান্য অনেক গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে।

টিকার প্রতি আগ্রহ ফেরাতে সেখানকার পুলিশ একটি অভিনব উপায় বের করেছে। প্রচার করা হয়েছে, ‘বয়স্ক মানুষেরা টিকা নিতে এলেই মিলবে উপহার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসুন, করোনার টিকা নিন। জ্যান্ত মুরগি হাতে বাড়ি ফিরুন।’ এমন উদ্যোগে সাড়াও মিলছে বেশ। গালিহ জানান, জ্যান্ত মুরগি উপহার দেওয়ার ঘোষণার আগে এক দিনে ২৫ জনের মতো বয়স্ক মানুষ করোনার টিকা নিতে আসতেন। এখন এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২৫০ জনে।

তবে বয়স্ক মানুষকে জ্যান্ত মুরগি উপহার দেওয়ার পাশাপাশি করোনার টিকা নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। গালিহ বলেন, ‘টিকা নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে আমরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। মানুষকে টিকার উপকারিতা বোঝাচ্ছি। স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্যরা টিকা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *