https://www.theasianjournals.com/?p=12469

আবু ত্ব-হা আদনানের খোঁজ পাওয়া গেছে

বাংলাদেশ লিড নিউজ

ঢাকা, বাংলাদেশ-ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের খোঁজ পাওয়া গেছে। এখন তিনি রংপুরের কোতোয়ালি থানায় আছেন। ছেলের সন্ধান পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আদনানের মা আজেরা বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, রংপুর শহরের বাবু খাঁ এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন আবু ত্ব–হা। শুক্রবার সেখান থেকেই উদ্ধার করে তাকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়।

১০ জুন রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন আবু ত্ব–হা আদনান। খোঁজ না পেয়ে তার মা রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের ৮ দিন পর পাওয়া গেল ত্ব–হাকে।

প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে, আবু ত্ব–হার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া অপর তিনজনকেও একই সময় নিজ নিজ বাড়িতে পাওয়া গেছে। রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রশিদ জানান, বেলা পৌনে তিনটার দিকে নগরের বাবুখা মাস্টারপাড়া এলাকায় আবু ত্ব–হার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় ত্ব–হার মা-ও তার সঙ্গে ছিলেন।

উদ্ধারের পর শুক্রবার বিকালে রংপুর নগরীর ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, পারিবারিক কারণে গাইবান্ধার ত্রিমোহনীতে বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন আবু ত্ব-হা আদনান।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, আবু ত্ব-হা ও তার সঙ্গীরা ঢাকা থেকে ফিরে তার এক বন্ধুর বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন। তার বন্ধুর নাম সিয়াম। পুলিশ জানায়, উদ্ধারের সময় তার বন্ধু (সিয়াম) বাসায় ছিলেন না। তার মা বাসায় ছিলেন। তারা একটি ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। তারা ওই রাতেই ঢাকা থেকে ফিরেছে অন্য কোথাও অবস্থান করেনি। 

প্রত্যক্তদর্শীরা জানায়, ত্ব-হা আদনান তার শ্বশুর বাড়িতে এসে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে স্বাভাবিক কথা বলেন। সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। এলাকাবাসীর সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন। এ সময় হাসিমুখেই কথা বলছিলেন তিনি।

৩১ বছর বয়সী এই ইসলামি বক্তার নাম মো. আফছানুল আদনান ত্ব-হা। তবে আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান নামেই পরিচিত। বাড়ি রংপুরে। রংপুর মহানগরীর সেন্ট্রাল রোডের আহলে হাদিস মসজিদ-সংলগ্ন গলিতে তার পৈতৃক বাসা। বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শালবন এলাকার চেয়ারম্যানের গলিতে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

আবু ত্ব-হার মা আজেরা বলেন, তার ছেলে অনলাইনে আরবি পড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদে জুমার খুতবা দিতে যেতেন। আদনান ১০ জুন বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি মসজিদে খুতবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রংপুর থেকে বিকেল ৪টার দিকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে ঢাকায় রওনা দেন। সঙ্গে ছিলেন তার দুই সঙ্গী আবদুল মুহিত ও ফিরোজ। এ ছাড়া গাড়িচালক হিসেবে ছিলেন আমির উদ্দিন ফয়েজ।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৩৬ মিনিটে আদনানকে তার স্ত্রী ফোন দিলে তিনি বলেন, তিনি এখন ঢাকার গাবতলীতে আছেন। মুঠোফোনের চার্জও প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এরপর থেকে আদনানসহ সবারই মুঠোফোন বন্ধ ছিল। এরপর আদনানসহ চারজনের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ইউটিউবে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে বক্তৃতা দেওয়া ভিডিও শেয়ার করেছেন অনেকে।

গাবতলী থেকে স্ত্রীকে ফোন করেই মোবাইল বন্ধ করে দেন আবু ত্ব-হা

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান ও তার সঙ্গীরা ব্যক্তিগত কারণেই আত্মগোপন করেছিলেন বলে জানিয়েছে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা বলছে, গাবতলী থেকে স্ত্রীকে ফোন করেই মোবাইল বন্ধ করে দেন আবু ত্ব-হা। তারপর সেখান থেকেই গাইবান্ধায় বন্ধুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আবু ত্ব-হা পুলিশকে জানিয়েছেন ঘটনার দিন রাজধানীর গাবতলী থেকে স্ত্রীর মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে সর্বশেষ কথা বলেন। এরপর মোবাইল বন্ধ করে দেন।

সেখান থেকে চলে যান গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহনীতে এক বন্ধুর বাড়িতে। এরপর থেকে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ব্যক্তিগত কারণে বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। এখানে তার সঙ্গে দুই সঙ্গী ছিলেন। তারা হলেন গাড়িচালক আমির উদ্দিন ও মুহিত।

এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, অপর সঙ্গী মুজাহিদকে বগুড়ায় রেখে যান। এক সঙ্গীকে নিয়ে অপরজনকে বন্ধুর বাড়িতে রেখে শুক্রবার বিকালে রংপুর মহানগরীর মাস্টার পাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন আবু ত্ব-হা। তার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো গোষ্ঠী কিংবা কেউ জড়িত ছিলেন না বলে আমরা ধারণা করছি।

সরকার-দেশের মানুষকে বিব্রত করতে আত্মগোপন করেননি ত্ব-হা

সরকারকে বা দেশের মানুষকে বিব্রত করতে আত্মগোপন করেননি আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান।  এটা উদ্দেশ্যমূলক না বলে জানিয়েছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রংপুর মহানগর পুলিশের ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন।

তিনি বলেন, ‌‌’এটা উদ্দেশ্যমূলক না। সরকারকে বা দেশের মানুষকে বিব্রত করতে এটা করেনি। এখন পর্যন্ত এটা মনে হয়নি। এত কিছু ভেবে তারা করেনি। আবু ত্ব-হা শিক্ষিত ছেলে। তাই সে ফোন বন্ধ করে রেখেছিল। সে জানে তার ফোন যদি অন করা হয় তাহলে তাকে শনাক্ত করা যাবে। তাই সে ফোন সুইজড অফ করে রেখেছিল। তারা সবাই একসঙ্গে ছিলেন। একই বাড়িতে ছিলেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *