https://www.theasianjournals.com/2021/06/19/%e0%a6%87%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%b9%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a7%87/

ইরানের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ইব্রাহিম রাইসি

মধ্যপ্রাচ্য লিড নিউজ

তেহরান, ইরান- ইরানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন কট্টরপন্থী রাজনীতিক ইব্রাহিম রাইসি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন তিনি। ভোটের প্রাথমিক ফলাফল এমন তথ্যই দিচ্ছে।

ভোটগ্রহণের পরদিন শনিবারই প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলাফল অনুযায়ী, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অন্তত ছয়গুণ ভোট পেয়েছেন ইব্রাহিম রাইসি। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার আগেই বিরোধীরা ফল মেনে নিয়েছেন এবং রাইসিকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরা, বিবিসি ও প্রেস টিভির।

ইরানের এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে শুক্রবার প্রায় ১৯ ঘণ্টা ধরে ভোট দিয়েছেন প্রায় ৩ কোটি ভোটার। প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ইব্রাহিম রাইসি। তার ঝোলায় মোট ভোট পড়েছে ১ কোটি ৭৮টি।

ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন রক্ষণশীল প্রার্থী মোহসেন রেজায়ি। তিনি পেয়েছেন ৩৩ লাখ ভোট। সংস্কারপন্থী জোটের প্রার্থী নাসের হেম্মাতি পেয়েছেন ২৪ লাখ ভোট। নির্বাচনের অপর প্রার্থী আমির হোসেন কাজিজাদে হাশেমি পেয়েছেন প্রায় ১০ লাখ ভোট।

নির্বাচনের আগে থেকেই কট্টরপন্থী নেতা ইব্রাহিম রাইসির জয় অনেকটাই সুনিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছিল। টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। নাম উল্লেখ না করেই তিনি ‘জননির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে’ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

নির্বাচনে রাইসির অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক প্রধান আব্দুল নাসের হেম্মাতি। এক চিঠিতে তিনি সরাসরি রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘আশা করি সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাাহ আলি খামেনির অধীনে আপনার প্রশাসন ইরানকে গর্বিত করবে, জীবনমানের উন্নতি ঘটাবে এবং জাতির মঙ্গল ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।’

বিচারপতি রাইসিকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরাও। ভোটের ফলাফল মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ার পর রাইসি বলেন, নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করায় ভোটারদের স্বাগত জানাচ্ছি।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতার আবেদন করেছিলেন প্রায় ৬০০ জন, তাদের মধ্যে ৪০ জন ছিলেন নারী। কিন্তু দেশটির ক্ষমতাসীন কট্টরপন্থি সরকারের প্রভাবপূর্ণ সংগঠন গার্ডিয়ান কাউন্সিল রাইসিসহ ৭ জন ছাড়া অন্যান্য সবার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করে।

এই সাত জনের মধ্যে তিনজন নির্বাচনের আগেই প্রার্থিতার আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকেন ৪ জন। প্রার্থীরা হচ্ছেন ইব্রাহিম রাইসি, আবদুল নাসের হেমাতি, মোহসেন রেজায়ি ও আমির হোসেন কাজিজাদে হাসেমি।

৬০ বছর বয়সী ইব্রাহিম রাইসি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ছিলেন। সেই হিসেবে নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ইরানের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল­াহ আলি খামেনির বিশেষ আস্থাভাজন রাইসির জš§ দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে। খামেনিও একই শহরে জš§গ্রহণ করেছিলেন।

খামেনির ন্যায় রাইসিরও দাবি, ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মুহম্মদ (সঃ)-এর রক্তসম্পর্কিত উত্তরাধিকার রয়েছে তার। এ কারণে সব সময় কালো রংয়ের পাগড়ি পরেন তিনি। নিজেকে ‘দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অভিজাতদের’ ঘোর বিরোধী হিসাবে দাবী করা রাইসি রাজনৈতিক দিক থেকে শিয়া ইসলামী কট্টরপন্থার সমর্থক। খামেনির মতো না হলেও দেশটির সংখ্যাগুরু শিয়া সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থিমহলে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক।

তবে ইরানের গণতন্ত্রপন্থি বলয়ে তার জনপ্রিয়তা বেশ কম। কারণ আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দেশটিতে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রপন্থিরা, যারা ক্ষমতাসীন ইসলামী কট্টরপন্থি সরকারের বিরোধী। যুদ্ধ শেষে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার কারণে শত শত গণতন্ত্রপন্থিকে গ্রেফতার করা হয় এবং তেহরানের রেভ্যুলুশনারি আদালত সংক্ষিপ্ত বিচারকাজের পরই তাদের অধিকাংশকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। সে সময় রেভ্যুলুশনারি আদালতের প্রধান বিচারক ছিলেন রাইসি।

[আরও পড়তে পারেন: কানাডার প্রথম মুসলিম বিচারপতি মোহাম্মদ জামাল]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *