https://www.theasianjournals.com/wp-content/uploads/2021/06/আফগান-নারী.png

তালেবান ঠেকাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছে আফগান নারীরা

পূর্ব এশিয়া লিড নিউজ

আফগানিস্তানে তালেবান ঠেকাতে হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছে আফগান নারীরা। বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবানের অগ্রগতি ঠেকাতে গণ-প্রতিরোধ বাহিনী গঠন করা হচ্ছে। এসব বাহিনীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় অংশগ্রহণ করছেন আফগান নারীরা। আফগানিস্তানের রয়েছে সাড়ে তিন লাখ সদস্যের বিশাল সেনাবাহিনী। কিন্তু তালেবানের মোকাবিলায় তারা ব্যর্থ। এখন সাধারণ জনগণই ভরসা।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির অগ্রগতি ঠেকাতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আফগান সরকার। সেনা ও পুলিশ বাহিনীকে নতুন করে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। তবে শুধুমাত্র তাদের ওপরই ভরসা করছে না। বেসামরিক নাগরিক তথা সাধারণ জনগণের হাতেও অস্ত্র তুলে দিচ্ছে।

তালেবানের বিরুদ্ধে এই গণ-প্রতিরোধ বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে আফগান নারীরাও। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, তালেবানের বিরুদ্ধে যারাই লড়তে চাইবে তাদেরকেই অস্ত্র ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়া হবে। ফলে সংঘাত কবলিত আফগানিস্তানে এবার সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে আফগানিস্তানের রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ সশস্ত্র সেনা। মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে মিলে ২০০১ সাল থেকে তালেবানকে মোকাবিলা করে আসছিল এই বাহিনী।

কিন্তু বিদেশি সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হতেই আফগানিস্তানে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে তালেবান। হারানো এলাকা পুনরুদ্ধারে হামলা জোরদার করেছে। আফগান সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে হটিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা দখল করছে।

এভাবে গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭০টি জেলার মধ্যে ৫০টিরও বেশি জেলা নিজেদের দখলে নিয়েছে তারা। এখন তারা ক্রমেই রাজধানী কাবুলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গোষ্ঠীটির এই নজিরবিহীন অগ্রগতিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল।

আফগানিস্তান টাইমস জানিয়েছে, তালেবানের অভিযান ঠেকাতে হঠাৎই তৎপর ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সরকার। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করছে। প্রধানত উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে এসব গণ-প্রতিরোধ বাহিনী গঠন করা হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ বলখের প্রাদেশিক রাজধানী ও দেশের অন্যতম বড় শহর মাজার-ই-শরিফের নব-নিযুক্ত উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকিবুল্লাহ ফায়েক বুধবার এক বক্তব্যে বলেন, ‘প্রত্যেক প্রদেশেই তালেবানের বিরুদ্ধে গণ-বাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে। অস্ত্রশস্ত্রসহ তাদেরকে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার।’ তিনি আরও বলেন, ‘তালেবানকে পরাজিত করা হবেই। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জনগণকে সর্বাÍক সহযোগিতা করা হবে।’

আফগানিস্তানের জুযজান প্রদেশের বহু নারী ইতোমধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন বলে দেশটির গণমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে। জুযজানের প্রাদেশিক সরকার এক বিবৃতি প্রকাশ করে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছে, এসব নারী অস্ত্র হাতে নিয়ে এই বার্তা দিতে চান যে, তারা তাদের শহরগুলোতে কোনও অবস্থায় তালেবানের অনুপ্রবেশ মেনে নিতে রাজি নন।

রাজধানী কাবুলের উত্তরে অবস্থিত কুহ্দামান শহরের শত শত মানুষ এক স্থানে সমবেত হয়ে পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র গ্রহণ করে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি নিজেদের সমর্থন ঘোষণা করেছে। ১৯৯০-এর দশকে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় থাকার সময় তালেবান কুহ্দামানে ব্যাপক গণহত্যা চালানোর পাশাপাশি সেখানের বহু আঙ্গুরের বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে এসব সশস্ত্র সম্মেলন আয়োজনে আমানুল্লাহ গুজারসহ বেশ কয়েকজন সাবেক মুজাহিদ কমান্ডার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ‘হেজবে ওয়াহদাত’ দলের নেতা ও প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির উপদেষ্টা মোহাম্মাদ মোহাক্কেক গণ-বাহিনী সংগঠিত করার কাজে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় বলখ প্রদেশের রাজধানী মাজার শরিফ পৌঁছেছেন।

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে সাবেক মুজাহিদ নেতা হজরত আলীর নেতৃত্বে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘গণ-বিদ্রোহ’ ঘোষণা করা হয়েছে। তালেবান বুধবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে এই মর্মে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে, যারা এ ধরনের বাহিনী গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছেন ‘তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।