Sweden's parliament elects Magdalena Andersson as first female PM

কেন একদিনও টিকলেন না সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপ লিড নিউজ

সুইডেনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। কিন্তু একদিনও ক্ষমতায় টিকলেন না তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। কিন্তু কেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদন বলছে, বুধবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর একটি বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করেছিলেন এই সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা। কিন্তু তাতে সমর্থন দেয়নি জোট সঙ্গী গ্রিন পার্টি। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে দায়িত্ব পাওয়ার ১২ ঘণ্টা যেতে না যেতেই প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।

পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের ম্যাগডালেনা বলেন, ‘জোট সরকারের ওপর থেকে কোনো দল সমর্থন তুলে নিলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। এটাই সুইডেনের সাংবিধানিক নিয়ম। এই নিয়ম মেনে আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাচ্ছি। সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ একটি সরকারের নেতৃত্ব দিতে পারি না আমি।’

তবে ম্যাগডালিনা স্পিকারকে জানান, তিনি একক দলীয় সরকার অর্থাৎ তার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সরকারে নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী।

শিগগিরই আবারও প্রধানমন্ত্রী পদে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইতিহাস গড়া ম্যাগডালেনা। তিনি বলেন, ‘আমি স্পিকারকে বলেছি, পদত্যাগ করছি। তবে একক দলের নেতা হিসেবে সরকারপ্রধানের পদে দ্রুত ফিরে আসবো।’

পেছনের রাজনীতি

১০ নভেম্বর সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফভেন পদত্যাগ করেন। ২০১৪ সাল থেকে গ্রিন পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে সংখ্যালঘু জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুর দিকে স্টেফান বলেছিলেন, দলের পরবর্তী নেতৃত্বকে যথেষ্ট সময় দিতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করবেন তিনি।

স্টেফানের পদত্যাগের পর ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেতা নির্বাচিত হন ৫৪ বছর বয়সী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। তিনি আগের সরকারে অর্থমন্ত্রী ছিলেন। গত মঙ্গলবার বামপন্থীদের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয় তাঁর। পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধির শর্তে অ্যান্ডারসনকে সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দেয় লেফট পার্টি।

সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের জোটের অংশীদার গ্রিন আর সেন্টার পার্টির সমর্থনও আগেই নিশ্চিত করেন ম্যাগডালেনা। তবে পার্লামেন্টে গতকালের ভোটের আগে বড় ধাক্কা খেতে হয় তাঁকে। এই দুই দলের এমপিরা ম্যাগডালেনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বাধা না দিলেও লেফট পার্টির প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল হলে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দেন।

পার্লামেন্টে ভোটাভুটি

প্রাধানমন্ত্রী হতে ভোটাভুটিতে পার্লামেন্টের ১১৭ জন সদস্য ম্যাগডালেনার পক্ষে ভোট দেন। ৫৭ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। ১৭৪ জন তাঁর বিপক্ষে ভোট দেন। ভোটদানে অনুপস্থিত থাকেন একজন। সুইডেনের সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হয় না। প্রার্থীর বিরোধিতাকারীরা ১৭৫ জনের বেশি না হলেই চলে।

তবে ম্যাগডালেনার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সুইডেনের পার্লামেন্টে শুরু হয় চরম নাটকীয়তা। ম্যাগডালেনার উত্থাপন করা বাজেট অনুমোদনে অস্বীকৃতি জানান গ্রিন পার্টির সদস্যরা। বিরোধের এক পর্যায়ে তাঁরা সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেন। এর জের ধরে সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হয় ম্যাগডালেনাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।