Barbados becomes a republic, renouncing British queen

বার্বাডোজ: বিশ্বের নতুন প্রজাতন্ত্র

লিড নিউজ

ঔপনিবেশিকতা ও দাসত্বের সব শৃঙ্খল ঝেড়ে ফেলল বার্বাডোজ। জন্ম নিল বিশ্বের নতুন প্রজাতন্ত্র হিসাবে। যার মধ্য দিয়ে অবসান ঘটল ৪০০ বছরের রাজতন্ত্রের। মঙ্গলবার থেকে আর ক্ষুদ্র ক্যারিবীয় দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান থাকছেন না রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

সেই জায়গায় নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে রাষ্ট্রপ্রধানের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিচ্ছেন স্থানীয় রাজনীতিক সান্দ্রা ম্যাসন। রানির প্রতিনিধি হিসাবে বার্বাডোজের গভর্নর জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। গত বছরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিয়া মোট্রেলে জানিয়েছিলেন, ব্রিটিশ উপনিবেশের দিন শেষ। এবার নতুন সূর্য দেখবে বার্বাডোজ। এর পরই অক্টোবর মাসে বার্বাডোজের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন ম্যাসন।

প্রায় ৪০০ বছর আগে ১৬২৫ সালে প্রায় চার হাজার মাইল দূরের ক্যারিবীয় দ্বীপটিতে ভেড়ে ইংরেজদের প্রথম জাহাজটি। এরপর শুরু হয় চার শতকের ঔপনিবেশিকতা আর দাসত্বের ইতিহাস। আফ্রিকা থেকে কৃষ্ণাঙ্গ দাস এনে আখ চাষ করানোই ছিল ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য। ২০০ বছরের মাথায় ছয় লাখ আফ্রিকান দাসের ঠাঁই হয় বার্বাডোজে।

১৮৩৬ সালে সেই দাসত্ব প্রথা অবলুপ্ত হয়। কিন্তু স্বাধীনতা আসেনি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ ছিল দেশটি। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর ১৯৬৬ সালে স্বাধীনতা পায় দ্বীপটি। তৈরি হয় প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও গভর্নর জেনারেলের মতো পদ। এর পরও রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ছিল ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথের নাম। সরাসরি না হলেও কাগজ-কলমে দেশটির সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করত ব্রিটেনের রাজপরিবার ও তাদের প্রতিনিধি।

এবার সেই প্রথারই অবসান হচ্ছে। ক্ষমতার এই হাতবদল ও রানির নাম ছেঁটে ফেলাকে আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এবং ঔপনিবেশিক ইতিহাসের দানবদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের উপায় হিসাবে দেখছেন বার্বাডোজের দুই লাখ ৮৫ হাজার বাসিন্দা। নতুন প্রজাতন্ত্র হিসাবে ইতিহাসের একটা নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে তারা।

সোমবার সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়েছে ক্ষমতা হস্তান্তর অনুষ্ঠান। আজ মঙ্গলবার ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা লাভের ৫৫তম বার্ষিকীর দিন। সামরিক কুচকাওয়াজ আর নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন ৭৩ বছর বয়সি সাবেক বিচারক সান্দ্রা ম্যাসন। তার হাতে দায়িত্বভার তুলে দেবেন রানির ছেলে প্রিন্স চার্লস। এজন্য প্রধানমন্ত্রী মিয়ার আমর মোটলির আমন্ত্রণে ইতোমধ্যে বার্বাডোজে পৌঁছেছেন তিনি।

রোববার রাজধানী ব্রিজটাউনে পৌঁছার পর ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সিএনএন জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্তও বার্বাডোজসহ ১৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন রানি এলিজাবেথ। বার্বাডোজ বেরিয়ে যাওয়ার পর এখন তার ঝুলিতে থাকবে আর মাত্র ১৫টি রাজ্য। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও জ্যামাইকার মতো দেশগুলো এই তালিকায় রয়েছে। তবে এই দেশগুলোর নাগরিকেরাও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

বার্রাডোজের আগে রাষ্ট্রপ্রধানের জায়গা থেকে রানি এলিজাবেথের নাম বাতিল করে ভারত মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপ দেশ মরিশাস। বিশ্বে এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৫০টি দেশ স্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। যার শুরু হয় ইউরোপের নেদারল্যান্ডসের মধ্য দিয়ে। প্রায় সাড়ে ৪০০ বছর আগে রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের স্পেন থেকে স্বাধীন হয় দেশটি।

রক্তক্ষয়ী লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৭৭৬ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। রাজতন্ত্রের বিলোপ করে ১৯১১ সালে নিজেকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা দেয় চীন। বিখ্যাত জার্মান বিপ্লবের মাধ্যমে সম্রাট দ্বিতীয় উইলিয়ামকে উৎখাত করে প্রজাতন্ত্র হয় জার্মানি। সর্বশেষ ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলোপ করে এশিয়ার দেশ নেপাল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।